খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। এত বরাদ্দের পরও অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে নগরী। গত চার বছরে এ ভোগান্তি পোহাচ্ছে সিটির বাসিন্দারা।
খুলনা নগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া ও জিন্নাহপাড়া এলাকার প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি তৈরি করা হয়েছে স্থানীয় মতিয়াখালী নালার পাশে। সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে সাধারণ মানুষ। রাতের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। আট কিলোমিটার দীর্ঘ নালাটির কোথাও কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই, নেই কোনো সতর্কতা ফলকও। স্থানীয়রা জানায়, অতিবৃষ্টিতে নালার পানিতে রাস্তা ডুবে যায়, ফলে বোঝাই যায় না কোনটা সড়ক-কোনটা নালা।
খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরে ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে কত অংশ খোলা অবস্থায় রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান দিতে পারেনি সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকার বেশির ভাগ অংশে কংক্রিটের ড্রেনেজ সিস্টেম থাকলেও তা উন্মুক্ত। টুটপাড়া এলাকার মহিরবাড়ী খালের অন্যপাশে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও ড্রেনের পাশে। উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা ড্রেনটির উচ্চতা কোথাও এক ফুট, আবার কোথাও বেশি। ড্রেনটি প্রায় ১৫-২০ ফুট চওড়া হলেও কিছু কিছু অংশের প্রস্থ রাস্তার চেয়েও দ্বিগুণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এ অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছেন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ড্রেন করার সময় রেলিং না দেয়াটা অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত ছিল। যেকোনো দুর্ঘটনায় এসব ড্রেনে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, নগরের ভেতরের সব ড্রেনের ওপর স্ল্যাব দেয়া হচ্ছে, কোনো ড্রেন উন্মুক্ত থাকবে না। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে নগরের সড়ক ও জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন ব্যবস্থা (ড্রেনেজ) উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।










