জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ‘৩৬ জুলাই: আমরা থামব না’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজন করে। সেই আয়োজনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিতদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ। বামপন্থী সংগঠন ও শিবির সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা। পরে ওই ছবিগুলো সরিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।

‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে ওই প্রদর্শনীতে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধী মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি স্থান পায়। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে গতকাল সকালে ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) এ কর্মসূচির সূচনা হয়। সেখানেই দেখানো হয় এসব ছবি।

তবে জুলাই উদযাপনের অনুষ্ঠানে শিবিরের এমন আয়োজন নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকালের দিকে ছাত্রশিবির ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। টিএসসিতে চিত্রপ্রদর্শনীর স্থানে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী নেতাকর্মীরা। তারা প্রক্টরের গাড়ি আটকে রাখেন। প্রক্টর না এলে গাড়ি ছাড়বেন না বলেও জানান তারা। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টর এলে ‘বাহ প্রক্টর চমৎকার, রাজাকারের পাহারাদার’ স্লোগান দেন বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। এতে ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় সেখানে শিবির কর্মীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ দাদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে শিবিরের সম্মতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম ছবি সংবলিত ব্যানারটি সরিয়ে নেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ছাত্রশিবিরকে বলি যে ছবিগুলো সরাতে হবে। তারা ছবি সরিয়ে নিতে সম্মতি দেয়। পরে আমাদের সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় ছবিগুলো সরিয়ে নেয়া হয়।’

ছবি সরিয়ে নেয়ার পর ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম ফরহাদ ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আয়োজনের ফটোফ্রেমগুলোর একটা অংশ নিয়ে কুতর্ক এবং মব সৃষ্টি করা হয়েছে।’

প্রদর্শনীতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি রাখার বিষয়টিকে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে বিতর্কিত করে ’৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর এক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে শিবির ’৭১-কে মুছে দেয়ার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আর বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন শিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শন করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘টিএসসিতে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনীর মাধ্যমে জুলাইকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর শিবিরের প্রজেক্টের বিরুদ্ধে এ ক্যাম্পাসের মুক্তিযুদ্ধপন্থী সব শিক্ষার্থী সরব আছেন।’

এদিকে টিএসসি প্রাঙ্গণে স্বীকৃত রাজাকারদের ছবি প্রদর্শন এবং তাদের সঙ্গে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।