নাটোরের বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুর স্যাপার কলেজের এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে ১০ বছর করে আটক আদেশ দিয়ে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে নাটোর শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
আটককৃতরা হলো লালপুর উপজেলার দাংগাপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে তুষার আলী (১৮), বাগাতিপাড়া উপজেলার শ্রীবতীপাড়া এলাকার ওবাইদুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেন, লালপুরের পুকুরপাড়া এলাকার আন্তাজ আলীর মেয়ে মেঘলা খাতুন এবং নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব মাধনগর এলাকার সালামের ছেলে তুষার আলী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুর স্যাপার কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বিভিন্নভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছিল একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তুষার আলী। কিন্তু মেয়েটি তার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ২০১৭ সালের ১২ জুলাই কলেজ ছুটির পর পানির সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে মেয়েটিকে অপহরণ করে অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তারা। পরে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় তারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। চিকিৎসা শেষে মেয়েটি ঘটনার বিস্তারিত পরিবারকে জানায়। পরবর্তী সময়ে মেয়েটির মা বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ মামলা করেন। গতকাল বিচারক মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে চার শিক্ষার্থীকে ১০ বছর করে আটকাদেশ দিয়ে যশোর সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরেক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার: নাটোর শহরে এক স্কুলছাত্রী দলগত ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শহরের হাফরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নাটোর সদর থানার এসআই জামাল উদ্দিন জানান, রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের কর্মচারী আবির হোসেন তার দশম শ্রেণীতে পড়া প্রেমিকাকে নিয়ে বিয়ে করার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোর শহরের হরিশপুরে তার বন্ধু মুইনের বাসায় যায়। সেখান থেকে রাতে মুইন তাকে হাফরাস্তা এলাকায় তার বান্ধবী মিথিলার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মিথিলা তার আরো কয়েকজন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে আবিরকে আটকে রেখে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করায় এবং সেই ভিডিও ধারণ করে। ভিডিওর বিনিময়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে রাত ১টার দিকে ভুক্তভোগী ও তার প্রেমিককে ছেড়ে দেয়। রাতেই তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযান চালায়।










