চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকার ১৯টি খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। খবর বাসস।
আজ রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাউনিয়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ছয়টি খাল দখল ও দূষণমুক্তকরণ এবং ব্লু নেটওয়ার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, বর্ষার আগেই ৬টি খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি খুব দ্রুতই আরো ৪টি খালের কাজ শুরু হবে। এরপর বছর শেষ হওয়ার আগেই বাকি ৯টি খালের দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজও সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় ১৯টি খাল নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান করা হবে। কোথায় কী ধরনের কাজ করতে হবে, তা নির্ধারণ করে আগামী বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের পরিকল্পনা নেয়া হবে।
খালের পাড়ে সবুজায়ন ও মাছ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, খালের পাড়ে কৃষিকাজ ও মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকার খালগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে। এগুলোকে নগর জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
খালের আশপাশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে দুই কিলোমিটার পরপর একটি করে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি নিশ্চিত করবে, কেউ যাতে খালে বর্জ্য না ফেলে।
দখল উচ্ছেদ নিয়ে প্রতিরোধ আসতে পারে উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, খাল পুনরুদ্ধারে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। বাধা এলেও সম্মিলিতভাবে তা মোকাবেলা করা হবে।
স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে, খাল রক্ষার দাবি তুলতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজউক, ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় তত্ত্বাবধানে খাল পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
রোববার উদ্বোধন হওয়া ছয়টি খাল হলো—বাউনিয়া খাল, রূপনগর খাল, বেগুনবাড়ি খাল, মান্ডা খাল, কালুনগর খাল ও কড়াইল লেক। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য ২৩.৬৬ কিলোমিটার।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, পানি সম্পদ সচিব নাজমুল আহসান, পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. হামিদুর রহমান খান এবং স্থানীয় সরকার সচিব মো. নিজাম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান এবং খাল সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন ক্যাপ্টেন ফিদা হাসান।










