৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আসামি বেশি হওয়ায় তদন্তে দেরি হচ্ছে। এসব মামলায় দোষীদের পাশাপাশি নিরীহ লোকও আছে।’

গতকাল বেলা ১১টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেছেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে ১০-১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা অসংখ্য মানুষের নামে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করত। এবার ১০-১৫ জনের নাম দেয়া হয়েছে, ২০০-২৫০ জন বেনামি লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজন্য মামলার তদন্তে দেরি হচ্ছে। এসব মামলায় যেমন দোষী লোকজন আছে, তেমনি নিরীহ অনেক মানুষও থাকতে পারেন।’

আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাচের মতো স্বচ্ছ ঘর করে দেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যাতে অন্যরা দেখতে পারে আসামির সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে কিনা।’

পুলিশ বাহিনীর সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এর জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগে বলা হতো জিডি এবং মামলা পুলিশ নিতে চায় না। এজন্য আমরা এরই মধ্যে মামলার গ্রহণ প্রক্রিয়া অনলাইনে করার ব্যবস্থা করেছি। এখন আপনারা ঘরে বসেই জিডি করতে পারেন। মামলা করার জন্য আর মানুষকে থানায় যেতে হবে না, তাই হয়রানি পোহাতে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের কেউ মামলা বাণিজ্যে বা দুর্নীতিতে জড়ালে ছাড় দেয়া হবে না। বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৪ জনকে আমরা অ্যাটাচ করে রেখেছি। ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। যদি আরো ৩০ থেকে ৪০ জনকে বাড়ি পাঠাতে হয়, একটুও কুণ্ঠাবোধ করব না, যদি কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। এটা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এটা যদি আমরা কোনো অবস্থায় কন্ট্রোলে আনতে পারতাম, তাহলে কিন্তু দেশ অনেক এগিয়ে যেত। এজন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আপনারা লোকজনকে সচেতন করেন। আপনারা যদি সত্য কথা লেখেন, তাহলে অনেক কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গাছা থানা ও ব্যারাক পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানসহ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা ছিলেন।