ছেলেটির নাম শান্ত। নামের মতোই শান্ত ছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল একদিন
নামকরা শেফ হবেন। দেশ-বিদেশের মানুষ তাকে চিনবে। সেজন্য রান্না বান্নার প্রশিক্ষণও
নিয়েছিলেন। সহকারী শেফ হিসেবে কাজ শুরু করেন বেইলি রোডের ওয়াফেল বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতের আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান শান্ত হোসেন (২৩)।
আগুনে দগ্ধ শান্তর সঙ্গে মাটিতেই সমাহিত হয়ে যায় তার বিখ্যাত শেফ
হওয়ার স্বপ্ন। শান্তদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূইগড় পশ্চিম
পাড়া এলাকায়।
শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে এলাকার মানুষ যাচ্ছিলেন শান্তদের বাড়িতে।
তাদের সহায়তায় পথ চিনে গেলাম। বাড়ির উঠানে গাছের ছায়ায় খাটিয়ার ওপর রাখা হয়েছিল শান্তকে।
আগুনে দগ্ধ হয়ে চেহারা কালো হয়ে গিয়েছে। জুমার নামাজের পর শান্তর জানাজা। জানাজায় নেয়ার
প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কথা হলো শান্তর চাচা রুবেল হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, শান্তর বাবা আমজাদ হোসেন সৌদিতে থাকেন। দুই ভাই এক বোনের
মধ্যে শান্ত সবার বড়। ছোট ভাই প্রান্ত হোসেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ছোট বোন আমেনা আক্তার
তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। মা লিপি আক্তার গৃহিণী। বাবা-মাকে সংসারে সহযোগিতা করতে আর নিজের
স্বপ্ন পূরণ করতে শান্ত চাকরি নেয় বেইলি রোডের গ্রীন কোজি কটেজ ভবনের ঐ রেস্টুরেন্টটিতে।
শান্তর ছোট ভাই ঢাকার কবি নজরুল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী প্রান্ত
হোসেন জানায়, শান্ত ঐ রেস্টুরেন্টে থেকেই কাজ করত। মাসে এক বা দুবার বাসায় আসত। বৃহস্পতিবার
রাত এগারোটার দিকে তারা খবর পান যে শান্ত যেখানে কাজ করে সে ভবনে আগুন লেগেছে। সঙ্গে
সঙ্গেই প্রান্ত ভাইয়ের সন্ধানে ছুটে যান বেইলি রোডে। সেখানে শান্তকে না পেয়ে পুলিশের
পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজে গিয়ে পান ভাইয়ের দগ্ধ লাশ। প্রান্ত জানান, হয়তো পরিস্থিতি
এমন ছিল যে তার ভাই তাদের ফোন করার সুযোগও পাননি। তার আগেই দগ্ধ হয়ে গেছেন।
শান্তর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী শান্তকে
ভালো মানুষ হিসেবে জানত।
জুমার নামাজের পর শান্তর জানাজা হয় ভূইগড় ঈদগাহ কবরস্থান ও মসজিদে।
পরে এ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।










