দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ৪০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তি এ টিকার জন্য যোগ্য বিবেচিত হচ্ছেন। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে পর্যন্ত দেশে ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৩২ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০ হাজার ৪১৮ ডোজ টিকা নষ্ট হয়েছে। ঢাকার বাইরের কেন্দ্রগুলোতেই টিকা নষ্টের হার বেশি।
অবশ্য টিকা নষ্টের বিষয়টি যে কেবল বাংলাদেশেই ঘটেছে তা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বিভিন্ন সময়ে বিশ্বে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ টিকা নষ্ট করে দেশগুলো। কার্যক্রম পরিচালনার সময় টিকা নষ্ট হওয়া কমাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ থাকলেও বেশির ভাগ দেশই তাতে সফল হচ্ছে না। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ নষ্ট হওয়া গ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সে হিসেবে বাংলাদেশের টিকা নষ্টের হার ১ শতাংশের কিছু কম। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’ নামের টিকা দিয়ে দেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ইপিআইয়ের তথ্যমতে, কোভিশিল্ড টিকার দশমিক ৮৮ শতাংশ নষ্ট হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশ ভারতে টিকা নষ্টের হারের অন্তত ৫ ভাগ কম। ভারতে চলমান টিকা কার্যক্রমে কোভিশিল্ডের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ টিকা নষ্ট হয়েছে। সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের টিকার আওতায়ই আনা যায়নি। এর মধ্যে অনেক রাজ্যে বন্ধ করা হয়েছে টিকা প্রয়োগ। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঝাড়খণ্ডে বরাদ্দের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ছত্তিশগড়ে ৩০ দশমিক ২, তামিলনাড়ুতে ১৫ দশমিক ৫, ১০ দশমিক ৮ ও মধ্যপ্রদেশে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ টিকা নষ্ট হয়েছে।
পাশের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কমসংখ্যক টিকা নষ্ট হওয়াকে সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, টিকা কার্যক্রম চলাকালে কিছু টিকা স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট হয়ে যায়। কারণ পরিবহন, প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় কিছুটা দুর্বলতা থেকেই যায়। তার মধ্যেও সর্বোচ্চ কম অপচয় হওয়ার দিকটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
ইপিআই পরিচালক ও সরকারের করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, বেশকিছু কারণে টিকা কার্যক্রমে টিকা নষ্ট হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রঙ পরিবর্তন হওয়া, মিশ্রণে যথাযথতার ঘাটতি, টিকাগ্রহীতাদের কম উপস্থিতি ইত্যাদি। হাত থেকে পড়ে গিয়েও কিছু টিকা নষ্ট হয়। ১০০ ডোজ টিকার মধ্যে পাঁচ ডোজ নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। দেশে অক্সফোর্ডের যে টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাতে আমরা অনেক সফল হয়েছি। খুব কমসংখ্যক টিকা নষ্ট হয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত ৫৮ লাখ ২ হাজার ১৫ জন নারী ও পুরুষ প্রথম ডোজ এবং ৪১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫৬ জন দুই ডোজ টিকা নিয়েছে। গত ৮ এপ্রিল দেশে কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নেয়া ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৩০ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছে না। গতকাল পর্যন্ত টিকাটির ১ লাখ ৬ হাজার ২৯ ডোজ মজুদ রয়েছে। দু-তিনদিনের মধ্যেই এ মজুদ ফুরিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










