কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। গতকাল সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা প্রশাসন ভবন থেকে কর্মকর্তাদের বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের হুঁশিয়ারিও দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাজিদের মরদেহ ভেসে থাকলেও দীর্ঘ সময় পর ইবি প্রশাসন, পুলিশ বা চিকিৎসকরা সেখানে যাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থানা থাকলেও মরদেহ উদ্ধারে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা। এমনকি আধাঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও ঘটনাস্থলে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসক উপস্থিত হননি। পরে বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মরদেহ নেয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, মৃত্যুর ২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা কিংবা হল প্রভোস্ট ঘটনাস্থলে আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকর নেই। সাজিদ কোথায় গিয়েছিল, কীভাবে তার মৃত্যু হলো, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য মিলছে না।
শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রকাশ্য রিপোর্ট, ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সক্রিয় করা, আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ-প্রস্থান শতভাগ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা, পুরো ক্যাম্পাস ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টিত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, পর্যাপ্ত ও সক্রিয় স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে যাবেন বলে হুঁশিয়ার করেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা নৈতিক নয়।
আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। শুরুতে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে সাজিদ আবদুল্লাহর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে সাজিদের মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন এক শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ইবি থানা পুলিশ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। সাজিদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।










