১৫০ বছরের বেশি পুরনো নাটোর পৌরসভায় হঠাৎ করেই বাড়ানো হয়েছে পৌরকর। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই-তিন গুণ পৌরকর বাড়ানোয় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার বলছে, কোনো রকম গণশুনানি ছাড়াই নাগরিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। এতে পৌরসভার নাগরিকদের জীবনমানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে।
১৮৬৯ সালে নাটোর পৌরসভা গঠন করা হয়। বর্তমানে নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৫ দশমিক ৩৮ বর্গমাইলের নাটোর পৌরসভা। সর্বশেষ এ পৌরসভায় ২০১৭ সালে পৌরকর নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর পৌরকর নির্ধারণ করার নিয়ম। সে অনুযায়ী এবারো পৌরকর নির্ধারণ শুরু করে নাটোর পৌরসভা। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই কর বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে পৌরবাসী।
জানা যায়, পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী পঞ্চবার্ষিক কর নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে নাটোর পৌরসভা। এর অংশ হিসেবে সরকার নির্ধারিত হারে প্রাথমিক কর নির্ধারণ করে করদাতাদের নোটিস দেয়া হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্র বলছে, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নাটোরে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও মিশ্র করদাতা রয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার ১০০। এবার ২০০৯ সালের পৌর আইন অনুযায়ী প্রাথমিক কর নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর কর পুনর্নির্ধারণ করায় নোটিসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে তা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তবে ২০ টাকার নির্ধারিত ফরমে কর পুনর্মূল্যায়ন কমিটির কাছে এ বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ পাচ্ছে পৌরবাসী।
নাটোর পৌরসভার কর নির্ধারক আতিকুল ইসলাম লিটন বলেন, এলাকাভিত্তিক স্থাপনার ভাড়ার ওপর পৌরকর নির্ধারণ করা হয়েছে। যে এলাকায় ভাড়া বেশি, সে এলাকায় তার পৌরকরও বেশি। পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী পৌরকর নির্ধারণ করা হলে পৌরবাসীদের জন্য তা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তার পরও পৌরমেয়রের নির্দেশনায় আমরা কম পৌরকর নির্ধারণ করেছি।
নাটোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন বলেন, পৌরবিধি অনুযায়ী পৌরকর বৃদ্ধির আগেই স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে গণশুনানির নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নাটোর পৌরসভা কোনো রকম গণশুনানি ছাড়াই নাগরিকদের ওপর পৌরকর চাপিয়ে দিয়েছে। এতে করে পৌরসভার নাগরিকদের জীবনমানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ পটুয়াপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান জানান, আগের তুলনায় তার কর বেড়েছে তিন গুণ। হঠাৎ করে এত টাকা পৌরকর দেয়া কষ্টসাধ্য।
বড়হরিশপুর এলাকার আব্দুস সামাদ বলেন, পৌরবাসীদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ পৌরকর বাড়িয়ে বাড়ি বাড়ি কাগজ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে
পৌরসভার নাগরিকরা হতভম্ব। কর পুনর্নির্ধারণে মেয়র মহোমদেয়র প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
নাটোর পৌরসভার কর কমিটির প্রধান ও ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন নাটোর পৌরসভার কোনো কর বাড়ানো হয়নি।
যে কারণে আমরা নাগরিকদের সঠিক সেবা দিতে পারছি না। তার পরও পৌরবাসীদের কর বাড়ানোর বিষয়ে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি জলি বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারের নিয়ম অনুসরণ করে প্রতি পাঁচ বছর পর পর অ্যাসেসমেন্ট করতে হয়। না হলে সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে পৌরসভা বঞ্চিত হয়। তিনি দাবি করেন, পৌরবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধ্যের মধ্যেই ট্যাক্স নির্ধারণ করা হচ্ছে।










