আগামী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট ধরে নিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়া বিএনপি ও সমমান দলগুলো দুর্গা পূজা শেষে কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। ছোট ছোট ঘেরাও থেকে বড় ধরনের অবরোধ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের এক দফা আদায় করতে চায় বিএনপি। এতে কাজ না হলে প্রয়োজনে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার পরামর্শ এসেছে সমমনা দলগুলোর থেকে। কঠোর কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকও শেষ করেছে দলটি। মহাসমাবেশ থেকে এ ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৈঠকে অংশ নেয়া দলটির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এরপর নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
গত কয়েকদিন ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের দুই অংশ এবং এনডিএমের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হয়েছে বিএনপির। দুর্গা পূজার পরে সরকার হটানোর ‘চূড়ান্ত কর্মসূচি’ কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে সবশেষে গণফোরাম ও পিপপল পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও মহিউদ্দিন আবদুল কাদের এবং পিপলস পার্টির বাবুল সরদার চাখারি, মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও পারভিন নাসের খান ভাসানী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছিলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও এ বৈঠকে যুক্ত ছিলেন বলে সভায় অংশ নেয়া একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি সামনে রেখে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। সে বিষয়েই সমমনা দলগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মতামত নেয় দলটি। এসব মতামতের ভিত্তিতে কঠোর কর্মসূচির কিছু প্রস্তাবও তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ছোট ছোট ঘেরাও কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা অবরোধ আর সবশেষে হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত এসেছে।
তবে সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকে জনভোগান্তি মাথায় রেখে কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কঠোর কর্মসূচির শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
গণফোরামের সভাপতি মোস্তফা মোহসিন মন্টু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের একটি মাত্র দাবি—অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। সে নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা অতীতে ’১৪ ও ’১৮ নির্বাচন দেখেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা কথা দিচ্ছি, নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হবে, আপনারা নির্বাচনে আসেন। সে নির্বাচনে আমরা আশা নিয়ে গিয়েছিলাম। সে নির্বাচনের পরিণতি কী হয়েছে আপনারা জানেন। সে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নটা এসেছে যে এ প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। ওদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া মানে বৈধতা দিয়ে দেয়া। বারবার এভাবে মেনে নেয়া যায় না। আজ দেশকে যে জায়গায় নিয়ে এসেছে, সেখানে একটা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য আমরা এ লক্ষ্যে আন্দোলন করছি।’










