কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সহোদর দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তিন নারীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মোকারমা সুলতানা পুতু নামে এক তরুণীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আব্দুল গনি এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেন টিটু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল শুক্কুর, আলমগীর হোসেন ওরফে বুলু, মিজানুর রহমান ও মো. শহীদুল্লাহ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল মজিদ, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা ও লায়লা বেগম। প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও দণ্ডিত অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকালে রামুর গর্জনিয়ায় শিশু মোহাম্মদ হাসান শাকিল (১০) ও তার ভাই মোহাম্মদ হোসাইন কাজলকে (৮) অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তাদের পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ জানুয়ারি গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা করেন শিশুদের বাবা। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে ওই দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ৭ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২০ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। দীর্ঘ নয় বছর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক আব্দুল গনি এ রায় ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, ‘দীর্ঘ নয় বছর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আসামিদের অপরাধের সন্দেহাতীত প্রমাণ পেয়েছেন। তাই আইনের বিধান অনুযায়ী পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।’