খুলনার তেরখাদা উপজেলার একটি পুকুর থেকে আড়াই মাস বয়সী যমজ দুই বোনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের মা কানিজ ফাতেমা কণার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেরখাদা থানার এসআই এনামুল হক জানান, শুক্রবার রাতে শিশুদের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে থানায় এ মামলা
করেন। পারিবারিক অশান্তির জেরে যমজ দুই বোনেকে মা কণা বেগম শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওইদিন সকালে তেরখাদার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের কুশলা গ্রামের খায়ের শেখের বাড়ির পুকুর থেকে আড়াই মাস বয়সী মণি ও মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মণি ও মুক্তা বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার মাসুম বিল্লাহর সন্তান। তাদের নানা খায়ের শেখ। মাসুম বিল্লাহ চাঁদপুরে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করেন।
এনামুল বলেন, চার বছর আগে তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের কুশলা গ্রামের খায়ের শেখের মেয়ের সঙ্গে বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার মাতারচর গ্রামের মোল্লা আবু বক্কারের ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছরের মাথায় তার স্ত্রী কণা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সন্তান জন্মের পর থেকে গত দুই মাস ১১ দিন বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন কণা।
যমজ শিশু জন্মের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মাসুম বিল্লাহ সন্তানদের দেখতে আসতেন না। নিজের বাড়িও নিয়ে যাননি। তাদের লালন-পালন করা কণার একার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। দেখভাল করতে অতিষ্ঠ হয়ে মা তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মণি ও মুক্তার মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। পরে বাকি দুজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও কণাকে আটক রাখা হয়। শুক্রবার রাতের মামলায় ওই শিশুদের মা কানিজ ফাতেমা কণাকে গ্রেফতার দেখা হয়েছে বলে জানান এসআই এনামুল।
তেরখাদা থানার ওসি জহুরুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কণা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মণি ও মুক্তা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় তাদের দুধ খাইয়ে ঘুম পড়ানোর চেষ্টা করেন কণা।
তার পরও তাদের কান্না না থামায় রাত আড়াইটার দিকে তাদের মুখে থাপ্পড় মারেন। এরপর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর কী করবেন ভেবে পারছিলেন না কণা। নাটক সাজানোর জন্য পরে তিনি যমজ বোনের মরদেহ তাদের বাড়ির পুকুরে ফেলে দেন।










