আনোয়ারা, রাউজান, হাটহাজারী, পটিয়া, সীতাকুণ্ডসহ মহানগরীর পার্শ্ববর্তী বিস্তৃত এলাকা এর আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। গতকাল সিডিএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
আজ থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগরিকরা এ পরিকল্পনার ওপর মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ঈসা আনসারী মাস্টারপ্ল্যানের পটভূমি, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এলাকা এবং খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ঈসা আনসারী বলেন, ‘একটি মাস্টারপ্ল্যান শুধু বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী কিংবা পরিকল্পনাবিদদের তৈরি নথি হতে পারে না। একটি এলাকার বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজন সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন সেখানকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতা, যানজট, খাল-পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও গণপরিবহনের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো জনগণের মতামতের মাধ্যমে পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।’
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জনগণ ছাড়া মাস্টারপ্ল্যান নয়, জনগণের জন্যই এ মাস্টারপ্ল্যান। চট্টগ্রামের মানুষ কী ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত, এসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। নাগরিকরা সিডিএ ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে খসড়া মহাপরিকল্পনার প্রতিবেদন, প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি পর্যালোচনা করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন ও ওয়েব-জিআইএসের মাধ্যমেও মতামত দেয়ার সুযোগ থাকবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানটি ২৫ বছর মেয়াদি।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রথম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয় ১৯৬১ সালে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে ও ২০০৮ সালে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে প্রণয়নাধীন মাস্টারপ্ল্যানটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। নতুন পরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ, পরিবহন, জলাবদ্ধতা, আবাসন, পরিবেশ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর, জলাশয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের পরিকল্পনা এলাকা চট্টগ্রাম নগরীর বাইরেও সম্প্রসারণ হয়েছে। নগরীর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পরিকল্পিত মিনি শহর ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাবও মাস্টারপ্ল্যানে রাখা হয়েছে।
এসব এলাকায় আবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ নগরায়ণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’










