শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই জোরালো হতে শুরু
করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙে দেয়ার দাবি। এক তরফাভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন
গঠন এবং নির্বাচন আয়োজনের অভিযোগ ছিল এ কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই। এবার পদত্যাগের
আলোচনার মধ্যেই সাংবাদিকদের সামনে আসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল
আউয়ালসহ অন্য কমিশনাররা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তারা। বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের
এ তথ্য জানান সিইসি।
নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) শরিফুল
আলমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়
করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশনাররা পদত্যাগ করবেন কিনা, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে
সিইসি বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিস্তারিত জানাব। সংবাদ সম্মেলনে সবকিছু জানানো হবে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা
সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকার নির্বাচন কমিশন সংস্কার উদ্যোগ
নেয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পদত্যাগ
করতে হবে এমনটাই মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। তারা পদত্যাগের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও
নিয়ে রেখেছেন। তবে নিজেরা পদত্যাগ করবেন, নাকি এ নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে তা
বোঝার চেষ্টায় ছিলেন তারা। এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য ইসি সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি। এমন অবস্থায় সাংবাদিকদের
সামনে আসছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যেকোনো একদিন
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছিল বর্তমান কমিশন। তবে তা আর হয়ে উঠেনি। বিদ্যমান
পরিস্থিতিতে ২৩ আগস্ট দৈনিক সমকালের মতামত বিভাগে ‘বিপ্লব ও ফরমান: সরকার ও সংবিধান’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ
লিখেছিলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। সেই লেখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানিয়েছেন,
তিনি আলোচনার জন্য কাউকে পাচ্ছেন না। তাই নির্বাচন কমিশন যে সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে,
সেটা পত্রিকায় লিখে জনগণকে অবহিত করাই সমীচীন মনে করছেন।
অন্যদিকে, ‘১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত
নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে নির্বাচন
কমিশনের পদত্যাগসহ নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে ইসি সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে
বুধবার বেলা ১১টার দিকে। বিক্ষোভে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের পাশাপাশি সাবেক প্রধান
নির্বাচন কমিশনার এম নুরুল হুদা ও রকিব উদ্দিন আহমেদের বিচার দাবি করা হয়।
ইসি সংস্কারে পাঁচটি দাবি তুলে ধরে তারা।
দাবিগুলো হলো— নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ, ২০১৮ সালের কেএম নূরুল হুদা
কমিশনের বিচার, ২০১৪ সালের কাজী রকিব কমিশনের বিচার, বিগত সরকারের ‘দালাল’ কর্মকর্তাদের অপসারণ
এবং দক্ষ, যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের পদায়ন।










