বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু কাগজের সার্টিফিকেট তৈরি করবে না। দক্ষ জনবল তৈরির কারখানা হবে। যারা দেশ গড়ার কারিগর হবে। তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে পারব না। আর বেকার ভাতাও তুলে দেব না। আমাদের যুবকেরা কারো কাছে বেকার ভাতা চায় না। তারা চায় তাদের হাতকে মর্যাদা দেয়া হোক। তারা চায় তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেয়া হোক।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশ সবুজ ছায়ায় ঘেরা, উর্বর একটি দেশ। এ দেশে অনেক সম্পদ আছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না কেন? শুধু অসৎ নেতৃত্বের কারণে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।

তিনি চা-বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে বলেন, চা-বাগানের আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যারা আছে, যারা অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করে এবং তাদের সন্তানেরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সেবা থেকে বঞ্চিত। যুগ যুগ ধরে একই পেশায় পড়ে আছে। আমরা চা-বাগানেও আধুনিকতা কায়েম করব, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করব, সেই মানুষগুলোরও জীবনমানের পরিবর্তন করব, ইনশাআল্লাহ। তাদের একটা সন্তানও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। আমরা বারবার বলে আসছি, এ দেশে বংশানুক্রমে রাজার ছেলে রাজা হয়, রানির মেয়ে রানি হয়। আমরা সে ধারা পাল্টে দিতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান যদি মেধাবী হয় তাহলে আমরা চাই সে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আগামী দিনের দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। সেই রাজনীতিই আমরা চালু করতে চাই।

তিনি বলেন যেকোনো ধর্মের মানুষ তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সেই ধরনের উপযুক্ত কাজ পাবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আর বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। বিভিন্ন ধর্মের যে অনুষ্ঠান আছে তারা মন ভরে তাদের মতো করে পালন করবে। সেখানে কেউ বাধা দেয়ার সাহস দেখাতে পারবে না। তাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ করবে তা অবশ্যই নিশ্চিত করব। যা আমরা গত ১৭ মাসে চেষ্টা করেছি। আমাদের কোনো সরকারি দায়িত্ব ছিল না। তারপরও আমাদের নৈতিক জায়গা থেকে আমরা চেষ্টা করেছি।