খুলনায় আমন ধান চাষে বীজ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি গুদামে বীজ নেই। খোলাবাজারেও বীজ মিলছে না। সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার এক-তৃতীয়াংশ বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় বীজতলা প্রস্তুতিতে সংকটে পড়েছেন কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, খুলনার নয় উপজেলায় এবার আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯২ হাজার ৫২০ হেক্টর। বীজতলা প্রস্তুতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর। কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করেন ৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২ হাজার ১০০ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায়।
খুলনা কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বীজ) উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, খুলনার গুদামে উপকূলীয় অঞ্চলে চাষের মতো কোনো বীজ নেই। আগেই খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ৪০০ ডিলারের মাধ্যমে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান সরবরাহ করা হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, এ বছর ৮০০ টন বীজধান সরবরাহ করা হয়েছে। এখন শুধু ৩৪ জাতের ধান রয়েছে গুদামে। যে ধানে পোলাওর চাল হয়। এটা খুলনায় চাষের জন্য উপযুক্ত নয়।
পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে কয়রা) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার কয়রা উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার অন্তত ১ হাজার ১৫ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়েছে।
জাহাঙ্গীর বলেন, এ অবস্থায় কৃষকরা বীজধানের জন্য আমাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করছি তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বীজ এনে সমন্বয় করতে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এজন্য ১ হাজার ১৫ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হয়। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ৯৬৫ হেক্টর বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।
মেহেদী হাসান আরো বলেন, কৃষকরা নতুন করে বীজতলা তৈরির চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ কেনায় কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করছে।
এদিকে বিভিন্ন উপজেলার কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা তিন গুণ দামেও বীজ পাচ্ছেন না। সরকারি বীজ না থাকায় খোলাবাজারে বেসরকারি বীজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
কয়রা উপজেলার কৃষক মোস্তাজিবুল হক বলেন, প্রথম দফার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে পানিতে। শ্রাবণের অর্ধেকের বেশি পার হয়ে গেছে। নতুন করে চারা লাগিয়ে ধান লাগাতে দেরি হয়ে যাবে। বীজও পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি লোকজনও সহযোগিতা করছে না।
এ উপজেলার বেদকাশী ইউনিয়নের কৃষক আল আমিন সানা বলেন, অতিবৃষ্টিতে বিলের পানি সরতে পারেনি। ফলে সব বীজতলা নষ্ট হয়েছে। নতুন বীজতলার জন্য ৪০০ টাকা বস্তার বীজধান কিনেছি ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে। এ বছর জমি চাষে খরচ হবে দেড়গুণ। খরচ পুষিয়ে নেয়া কঠিন হবে।
দাকোপ উপজেলার কৃষক নিরঞ্জন বৈদ্য বলেন, কয়েক দিন উপজেলা সদরে হাঁটাহাঁটি করে কোনো বীজ পাইনি। গ্রামের একজনের বাড়িতে অতিরিক্ত পাঁচ কেজি বীজধান ছিল। তাই দিয়ে নতুন করে চারা করছি। আরো ১০ কেজি ধান প্রয়োজন তার।
পাইকগাছার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বীজের এমন সংকট আগে কখনো হয়নি। ডিলারদের কাছে বীজ রয়েছে। তবে তারা দাম নিচ্ছে তিন গুণ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অতি বর্ষণের পর আমরা উদ্বৃত্ত বীজের খোঁজ নিয়েছি। এরমধ্যে দাকোপ, ফুলতলা, রূপসা ও পাইকগাছায় মোট ১৪ টন বীজধান রয়েছে। সেগুলো কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের চেষ্টা করছি।










