সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার দিনের শুরু থেকেই চুলোয় আগুন জ্বালাতে পারেনি। টেকনাফ পৌরসভার কলেজ পাড়া, শীলবনিয়া পাড়া, ডেইলপাড়া, জালিয়াপাড়া, অলিয়াবাদ, খানকারডেইল, চৌধুরীপাড়া ও কেকে পাড়ার বড় অংশ পানিতে ডুবে গেছে। টেকনাফ সরকারি কলেজ ও আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরো প্রাঙ্গণ প্লাবিত।
হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী, চৌধুরীপাড়া, কোনারপাড়া, ওয়াব্রাং, মৌলভীবাজার, ফুলেরডেইল এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী, লম্বাবিল, কানজর পাড়া ও মিনাবাজার এলাকাতেও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জামাল হোসেন বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিতে অনেক ঘরেই পানি ঢুকে গেছে, বাসযোগ্যতা হারিয়েছে অনেক বাড়ি। চলাচলে চরম দুর্ভোগ হচ্ছে। খাল দখল ও ড্রেন পরিষ্কারের অভাবে জলাবদ্ধতা দিনদিন প্রকট হচ্ছে।’
সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘এভাবে একটানা বর্ষণ খুব কম দেখা যায়। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে খাবার, ঘুম এমনকি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জনজীবন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।’
সাবরাং ইউনিয়নের কুরাবুইজ্জা পাড়া, ফতেহলিয়া পাড়া, মুন্ডার ডেইল, চান্দলী পাড়ার একাংশ, হাদুর ছড়া, খুরের মুখ এলাকার বহু বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপের মাঝেরপাড়া, হাজীরপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার পানিতে ডুবে আছে।
উত্তর পাড়ার মাঝের ডেইল, ডাঙ্গর পাড়ার পূর্ব পাশ ও কোনার পাড়ার পশ্চিম পাশের শতাধিক পরিবারও বিপাকে পড়েছে। ক্যাম্প পাড়া ও বাজার পাড়ার বহু পরিবারও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। পৌরসভার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোকে তিন বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে।’










