স্ত্রী তাবাস্সুম কায়সারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কারাবাসের পর এবার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। তিনি নিজের স্ত্রী এবং গুলশানের এক জিমের প্রশিক্ষক ভারতীয় নাগরিক আলিন্দ যাদবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

আজিজ আল কায়সার আদালতের কাছে তার অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা উল্লেখ করেছেন। সহযোগী হিসেবে বেঙ্গল ওয়েবিলিং লিমিটেড নামের গুলশানের একটি ব্যায়ামাগারের প্রশিক্ষক ভারতীয় নাগরিক আলিন্দ যাদবের নামও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২৩ মে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিব এ আদেশ দেন। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) বিএম ফরমান আলীকে এ অভিযোগ এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়। 

গুলশান থানার ওসি বিএম ফরমান আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আদালতের নির্দেশে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সারের অর্থ আত্মসাতের মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ মামলায় তাবাস্সুম কায়সার, জিম ইনস্ট্রাক্টর ভারতীয় নাগরিক আলিন্দ যাদবসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজিজ আল কায়সার ও তাবাস্‌সুম কায়সারের ২৮ বছরের সংসার। এ দম্পতির তিন সন্তান বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। তাবাস্‌সুম কায়সার নিজেও সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। একই সঙ্গে পারটেক্স স্টার গ্রুপেরও পরিচালক তিনি। আজিজ আল কায়সারের মালিকানাধীন অন্য কোম্পানিগুলোতেও স্ত্রী অংশীদার। তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা দাম্পত্য কলহে জড়িয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে আজিজ আল কায়সার পুলিশেরও দ্বারস্থ হন। আলিন্দ যাদব নামের এক ভারতীয় যুবকের সঙ্গে তাবাস্সুম কায়সারের ঘনিষ্ঠতার জেরে এ কলহের সূত্রপাত। পরে আজিজ আল কায়সারের বিরুদ্ধে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মোট চারটি মামলার আবেদন করেন তাবাস্সুম কায়সার।