আসামিদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজোশে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা তুলে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি।

দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, ‘দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে তিনজনই পলাতক। বিভিন্ন ধারায় দেয়া সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘পৃথক ছয়টি ধারায় তিনজন আসামির প্রত্যেককে এ সাজা দেয়া হয়।’

রায়ে দণ্ডবিধির পাঁচটি ধারায় ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে দুটি ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছর করে, দুটি ধারায় সাত বছর করে এবং অন্য দুটি ধারায় পাঁচ বছর করে মোট ৪৪ বছর সাজা দেন আদালত।

এছাড়া ছয় ধারায় ভিন্ন ভিন্ন অংকে প্রত্যেককে মোট ১ কোটি টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে মোট আরো তিন বছর ছয় মাসের সাজাও দেয়া হয়।

দণ্ডিতরা হলেন বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) অফিসের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, একই কার্যালয়ের সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) সাদিকুর রহমান খান।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামি মোহাম্মদ হোসেন যে পরিমাণ টাকা তোলার কথা ছিল তার চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ২৪টি চেকের মাধ্যমে তুলে নেন তিনি। এ টাকা ক্যাশবুকে প্রদর্শন করা হয়নি এবং সরকারি কোষাগারেও জমা পড়েনি।

ওই সময়ে অতিরিক্ত টাকা তুলতে ক্ষমতাপত্র প্রদানের মাধ্যমে তাকে সহায়তা করেন তিন বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম, মো. সাদিকুর রহমান খান ও স্বপন কুমার মিত্র।

এ চারজনের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সেই সময়ে চট্টগ্রামের জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার মো. নুর আহাম্মদ বাদী হয়ে ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন।

এ মামলার তদন্ত চলাকালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হয় এবং এক আসামি স্বপন কুমার মিত্র মারা যান। পরে ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়।

প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে জমা দেয়া দুদকের অভিযোগপত্রে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল আদালত এ রায় দেন।