শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করতে চায় সরকার। বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে এ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যে অবহেলার শিকার হয়েছে, দেশের জনগণ যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, সব সেক্টরে, সব প্রতিষ্ঠানে যে সংকট তৈরি করা হয়েছে, সেই পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করছে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কামটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান, এটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজে ৫০টির মতো অধ্যাপক পদ এবং সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদে আরো ১৫০টি পদ শূন্য রয়ে গেছে। এটা দীর্ঘদিনের অবহেলার একটি চিত্র। আমাদের স্বাস্থ্য সমস্যাটা সামগ্রিক দিক থেকে দেখতে হবে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেলের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফয়েজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আবদুর রব, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাসুদ করিম, হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিম চৌধুরী।

মতবিনিময় সভায় মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তারা চট্টগ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘চিকিৎসক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।