কভিড-১৯ প্রতিরোধে দেশে চলছে টিকাদান কর্মসূচি। টিকার নিবন্ধনে পুরুষদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন নারীরা। এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ২৮ লাখের বেশি চল্লিশোর্ধ্ব টিকাপ্রত্যাশী। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ হলেও নারী ৩৭ শতাংশ। এদিকে টিকার নিবন্ধনের জন্য ওয়েবসাইট ও সেলফোন অ্যাপ চালু করা হবে বলে কর্মসূচির শুরুতেই জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই মূলত নিবন্ধন চালু হলেও গতকাল অ্যাপটি মূলত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সুরক্ষা’ নামের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সহসাই নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে না।
গত ২৭ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষামূলক টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন এবং পরদিন রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালে ৫৬৭ জনের ওপর পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ করা হয়। তাদের মধ্যে বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়ায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে টিকা গ্রহণের জন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে নিবন্ধনের জন্য ২৭ জানুয়ারি বিকালে চালু হওয়া সুরক্ষা ওয়েবসাইট টিকাপ্রত্যাশীদের একমাত্র ভরসা। এতে নারীদের নিবন্ধনের হার মাত্র ৩৭ শতাংশ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সিস্টেমস ম্যানেজার মোহা. মাসুম বিল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ জন টিকাপ্রত্যাশী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ১১৯ জন পুরুষ এবং ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৩১ জন নারী। নিবন্ধিত পুরুষদের ৬০ শতাংশের বেশি টিকা নিলেও নিবন্ধিত নারীদের মধ্যে টিকা নিয়েছেন ৫০ শতাংশের কম।
নারীদের নিবন্ধনের বিষয়টি দৃষ্টির বাইরে রয়ে যাওয়ার জন্যই এমন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা প্রতিরোধে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নারীরা পিছিয়ে থাকে। নিবন্ধন কম হওয়ার বিষয়টি তারই প্রতিফলন। তবে নারীদের জন্য বিশেষ প্রচারণার ব্যবস্থা করলে এবং সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিলে নিবন্ধন বাড়তে পারে।’
তবে নারীদের জন্য বিশেষভাবে কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সবার জন্যই নিবন্ধনের বিষয়টি উন্মুক্ত। নারী বা পুরুষের জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। করোনায় নারীদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম। ফলে নিবন্ধিত হয়ে টিকা গ্রহণে আগ্রহী নারীর সংখ্যা কম হতে পারে।’ নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গুগল সুরক্ষা অ্যাপের জন্য এখনো অনুমতি দেয়নি। অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।’
এদিকে শহরের তুলনায় গ্রামে নিবন্ধন অনেক কম। রাজধানী, বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহর সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (এমআইএস) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর। তারা বলছে, নিবন্ধনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গতকাল বিকাল পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ৯ লাখ ৫৫ হাজার নারী ও পুরুষ নিবন্ধন করেছেন। আর ১ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধিত নারী ও পুরুষ নিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ।
অন্যদিকে টিকাদান কর্মসূচির ১১তম দিনে গতকাল সুরক্ষা নামের একটি অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়েছে। নানা জটিলতায় আটকে থাকা সুরক্ষা অ্যাপ অবশেষে উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, এটি নিবন্ধনের জন্য নয়। টিকাদান কেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহারের জন্য একটি অ্যাপ। টিকা নিতে আসা ব্যক্তির কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজে তার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য জানার জন্য অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনার জন্য এ অ্যাপ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের জানান, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ধাপ আসছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এ ধাপে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসবে।
উল্লেখ্য, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’র তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে সরকার। এর মধ্যে ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২১ জানুয়ারি একই টিকার ২০ লাখ ডোজ বাংলাদেশকে উপহার পাঠায় ভারত।










