নাটোরে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে রাতারাতি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এলপিইজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। খুচরা বাজারে ১ হাজার ৩২০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডার। সম্প্রতি সরকার দাম কমিয়ে ১ হাজার ২১৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সিলিন্ডারপ্রতি ১০০-১৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে খুচরা পর্যায়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে গত ৩ জুলাই খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিইজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৪ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তার ১ মাস পর অর্থাৎ গত ২ আগস্ট সমপরিমাণ গ্যাসের ৩৫ টাকা দাম কমিয়ে নির্ধারণ করে ১ হাজার ২১৯ টাকা। কিন্তু গত ৬ আগস্ট জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করায় এর প্রভাব পড়ে গ্যাস সিলিন্ডারেও। ফলে সরকারনির্ধারিত দামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নাটোরে খুচরা পর্যায়ে লাফার্জ, যমুনা, বসুন্ধরা, ওরিয়নসহ সব কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। এতে বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। নাটোর শহরের দক্ষিণ পটুয়াপাড়া এলাকার মোজাফর হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে ১ হাজার ২৪০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার কিনলাম। এখন শুনছি সেটি বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।
শহরের নিচাবাজার এলাকার অন্নপূর্ণ ট্রেডার্সের মালিক কৃষ্ণ কুমার বলেন, পাইকারি পর্যায়ে শনিবার থেকে হঠাৎ করেই সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদেরকেই প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ২৭০ থেকে ১ হাজার ৩২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী চিত্তরঞ্জন সাহা বলেন, পাইকারিতে ১ হাজার ৩২০ টাকা নেয়া হচ্ছে গ্যাসের দাম। খরচসহ আমরা বিক্রি করছি ১ হাজার ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোষ চাপিয়েছেন গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর। তারা বলছেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিগুলো অলিখিতভাবে সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে। বেশি দামে কেনার কারণে বাড়তি দামেই তারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরের বঙ্গজল এলাকার গ্যাসের ডিলার সুব্রত কুমার বলেন, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই গ্যাসের সিলিন্ডারের দামও কোম্পানি বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো খবর তার কাছে নেই। তাছাড়া সরকার নির্ধারিত দামের বেশি কেউ নিলে আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।










