নাটোর জেলার ছোট-বড় ৩৫টি বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারগুলোতে দেশী জাতের মাছ সরবরাহ কমেছে। বিলের মাছের সরবরাহ কমে আসায় চলতি সপ্তাহে পুকুরে চাষের মাছের কদর বেড়েছে। দামও বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা হারে। দাম বৃদ্ধিতে জেলার প্রায় ৩০ হাজার পুকুরে মাছ উৎপাদনকারীরা আশার আলো দেখছেন।

ভোর থেকেই নাটোর শহরের মাছের পাইকারি বাজারগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরব হয়ে ওঠে। অধিকাংশ পাইকারি বাজারে বিলের মাছের সরবরাহ কমে এসেছে। এতে করে পুকুর-নদী ও খালের মাছ বেশি সরবরাহ হচ্ছে। এতে করে চলতি সপ্তাহে পুকুরে চাষের সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছের দাম বাড়ায় হাসি ফুঠেছে জেলার ৩০ হাজার পুকুরের মাছ উৎপাদনকারীর মুখে।

পাইকারি বাজার ও মাছ উৎপাদনকারীদের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে সিলভার কার্প কেজিতে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কোজ। এ সপ্তাহে দাম বেড়ে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ১৮০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশ ১০০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এছাড়া কাতল ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০, মৃগেল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ এবং দেশী টেংরা ৩৫০ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে বিল ও নদী-খালের মাছ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ওই সময় পুকুরের মাছের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে মাছের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেন আড়তদাররা।

নাটোর শহরের মাদ্রাসাবাজারের আড়তদার হাবিব বলেন, বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে দেশী মাছের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে পুকুরে চাষ করা মাছের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এতে করে চাষ করা মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে মাছের দাম আরো বাড়তে পারে।

মাছচাষী অরুণ কুমার বলেন, খালবিলের মাছ পর্যাপ্ত সরববাহ থাকায় দুই সপ্তাহ আগেও চাষের মাছ প্রতি কেজিতে বর্তমান দামের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হয়। ওই সময় পুকুরে মাছচাষীরা লোকসান করলেও বর্তমান দামে কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন।

আরেক মাছচাষী পলাশ হোসেন জানান, করোনার মধ্যে মাছ বিক্রি করে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে চাষীদের। তাছাড়া খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে চাষীদের আরো বিপাকে পড়তে হয়। মাছের খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অতীতের লোকসান পূরণ করতে মাছের দাম বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, নাটোর জেলায় প্রতি বছর মাছের চাহিদা প্রায় ৪৫ হাজার টন। আর চলতি বছর মাছের উৎপাদন প্রায় ৬৩ হাজার টন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। আর এসব মাছ পুকুর থেকেই সরাসরি রাজধানীর বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।