বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী তিনি। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে নিজের প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি মো. রাকিব হোসাইন রনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ভোটাররা আপনার কাছে কী প্রত্যাশা করছে?
চব্বিশের ৫ আগস্টের পরে একটি রাজনৈতিক দল বা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা- রাজনীতির একটি গুণগত পরিবর্তন। ৫ আগস্টের আগে মিটিং-মিছিল, আন্দোলন-সংগ্রাম এসব নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু ৫ তারিখের পর থেকে আমাদের লক্ষ্য, দেশটাকে নিয়ে এগিয়ে যাব, নতুন করে দেশটা নির্মাণ করব।
লক্ষ্মীপুর মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। এ জেলায় প্রচুর সয়াবিন, নারিকেল, সুপারি, ধান ও শাক-সবজির চাষ হয়। আমার মতে, এখানকার কৃষি কার্যক্রমকে যদি আমরা আধুনিক করতে পারি, তাহলে এ অঞ্চলকে খুব সহজেই স্বনির্ভর করা সম্ভব। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরকে আমরা বাণিজ্যিকভাবেও সম্পৃক্ত করতে পারি। আমাদের প্ল্যানওয়াইজ এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে এ জেলায় কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার জন্য যা যা করা দরকার, সে পদক্ষেপ নেব এবং তা বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলব। এজন্য আমি আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারে উল্লেখ করেছি- 'কৃষিভিত্তিক-অর্থনীতি লক্ষ্মীপুরের সমৃদ্ধি'।
এ কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোনটা যদি আমরা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে দীর্ঘ দিনের অবহেলিত লক্ষ্মীপুরের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি ভালো ফলাফল আনতে পারব। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অনেক কলকারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। যেমন- ফিডমিল, কোল্ডস্টোরেজ, সয়াবিন ফ্যাক্টরি, অটোরাইস মিল প্রভৃতি। তাছাড়া কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বা লক্ষ্মীপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছ। সবমিলিয়ে লক্ষ্মীপুরে একটি বড় ধরনের এগ্রিকালচার জোন তৈরি করলে, পুরো এলাকার মানুষ এ থেকে সুবিধা নিতে পারবে।
লক্ষ্মীপুরে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থাকলেও শিল্পায়ন তেমন এগোয়নি কেন?
প্রধান বাধা মূলত দুটি। এক, বিগত ১৭ বছর আমরা কাজ করার কোনো সুযোগ পাইনি, আর দুই, পরিকল্পনার অভাব। এ দুটো সমস্যা নিয়ে কাজ করলে কৃষি পণ্যকে সহজেই মার্কেটে নিয়ে আসতে পারব। তখন কৃষিভিত্তিক যে হাব গড়ে উঠবে, সেটা থেকে আমরা লাভবান হব। এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত, যেমন- কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এগ্রিকালচারাল ইন্সটিটিউট ও মেডিকেল কলেজ। তাছাড়া জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া রেললাইনও এর সঙ্গে জড়িত। সরকার যখন দেখবে এ অঞ্চলে বড় ধরনের মার্কেট তৈরি হয়েছে, নোয়াখালী থেকে লক্ষ্মীপুর, লক্ষ্মীপুর থেকে চাঁদপুর আবার লক্ষ্মীপুর হয়ে মাইজদী পর্যন্ত রুটে লাভবান হচ্ছে, ট্যাক্স পাওয়া যাচ্ছে, তখন সরকার এদিকে নজর দেবে। সে হিসাব করেই আমরা রেল-লাইন, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাস্তা প্রশস্তকরণে প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ বড় ধরণের ট্রাক-লরি, কাভার্ড ভ্যান যাতায়াতের জন্য বড় রাস্তার প্রয়োজন। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী, পাইকাররা আসবে-যাবে। তাদের জন্য হোটেল-মোটেল গড়ে উঠবে। মোট কথা এ অঞ্চল একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।
নির্বাচিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা কি?
বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে প্রোডাকশনের ওপর বা কৃষিপণ্য যেখানে বেশি উৎপাদিত হবে, সেখানে স্বাভাবিকভাবে ঋণের ব্যবস্থা থাকবে। তবে আমরা এটাকে এখনই সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমরা কৃষিভিত্তিক যে প্রকল্পের কথা চিন্তা করছি এর সঙ্গে যদি আমরা থাকি, তাহলে সেটির সঙ্গে সঙ্গে ছোট, মাঝারি ও বড় অনেক শিল্প গড়ে উঠবে। সবকিছুতেই ঋণের প্রয়োজন হবে। এনজিওর মাধ্যমেও হতে পারে অনেকগুলো সেক্টর। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে এ উদ্যোগগুলো আসতে পারে।
এ আসনের ভোটারদের মধ্যে তরুণরা বড় একটি অংশ, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কী উদ্যোগ নেবেন?
এরই মধ্যে আমাদের দল থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি এক বছরের জন্য বেকার ভাতাও থাকবে। যেসব তরুণ-ছাত্র-যুবক প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, তারা পরবর্তীতে যেন পূর্ণাঙ্গ ও ভালো ব্যবস্থাপনায় একটি কর্মসংস্থান পায়, সে চেষ্টাও থাকবে। আজকাল ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইনে কেনা-বেচা হচ্ছে। সুতরাং ব্যবস্থা থাকলে সবকিছুই সম্ভব। এজন্য ব্যবসার ক্ষেত্রটি তৈরি করতে হবে। আর সে চিন্তা থেকেই কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে আমরা লাখো তরুণ-তরুণীকে সম্পৃক্ত করতে পারব। পাশাপাশি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
নির্বাচন ঘিরে আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক ছিল। আমরা লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে ব্যাপক কাজ করেছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের দাবি-দাওয়ার কথা শুনেছি। দেখেছি, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারায় এবারের নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্দীপনা কাজ করছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরছেন ভোটে অংশগ্রহণ করতে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যারা কাজের জন্য থাকেন, সবার মাঝে একটি উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। লক্ষ্মীপুরসহ দেশবাসী সবাই অপেক্ষায় আছেন, একটি গণজোয়ার আসছে ধানের শীষের পক্ষে। যেহেতু আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করেছি, তাই সাধারণ ভোটারের সেন্টিমেন্টকে আমরা ধারণ করি। এ আসনে আমি এতোটা আশাবাদী যে, আমার বিশ্বাস, লড়াইটা খুব বেশি শক্ত হবে না।














