করদাতাদের হয়রানি বন্ধে 'ফেসলেস' বা ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার জটিলতা দূর করতে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে করদাতাকে আর হিসাব কষতে হবে না, সব কাজ সিস্টেমই করে দেবে।
তিনি আরো জানান, করদাতাদের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো হয়রানি। করদাতার সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার সংকট দূর করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এখন থেকে অডিট সিলেকশন হবে, যেখানে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও ‘রিস্ক মেকানিজম’ পদ্ধতিতে আগামী ১ জুলাই থেকে আয়করের পাওনা রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য টাকা কোনো দফতরে না গিয়ে সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন থেকে করদাতারা অনলাইনে লগইন করে তাদের পার্সোনাল লেজার, ট্যাক্স লায়াবিলিটি এবং রিফান্ড স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির ন্যাশনাল থিয়েটার হলে পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (পিপিআরসি) আয়োজনে ‘রেভিনিউ মোবিলাইজেশন: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অনুষ্ঠানে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, আধুনিক এবং হয়রানিমুক্ত করতে নতুন পরিকল্পনার কথা জানান মো. আব্দুর রহমান। সেখানে শিক্ষা কারিকুলামে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তিনি প্রাথমিক থেকে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সিলেবাসে 'ট্যাক্স এডুকেশন' অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই জানানো উচিৎ কেন কর দেয়া প্রয়োজন এবং এটি দেশের উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখে।
রাজস্ব বাড়াতে ক্যাশ ট্রানজ্যাকশন কমানোর ওপর জোর দেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যেন কোনো টিটি বা পে-অর্ডার করার আগে টাকা অবশ্যই ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। এনবিআরের পরবর্তী লক্ষ্য হলো পুরো অর্থনীতিতে 'ইনভয়েসিং' ব্যবস্থা চালু করা, যা ফাঁকি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।










