বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে শুরু হয়েছে পর্যটন মৌসুমের আমেজ। সৈকত নগরীতে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ ও বিভিন্ন পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠান নতুন সাজে সেজেছে। বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো। দুর্গা পূজার টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢলও নেমেছে। তবে উৎসবহীন দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই সেন্ট মার্টিনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। হোটেল ও রিসোর্টসহ পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার শুরু করে। গেল মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়ায় এবার হোটেল-রিসোর্ট সংস্কার কিংবা পর্যটকদের সেবায় কর্মকর্তা-কর্মচারী রাখা চূড়ান্ত করেনি। গত বছর পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ভরা মৌসুমে মাত্র দুই মাস পর্যটকরা দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পান। তাও আবার দৈনিক ২ হাজার করে। দুই দশক ধরে সেন্ট মার্টিনের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ পর্যটন ব্যবসায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পর্যটকরা দ্বীপে গেলে চার-পাঁচ মাসের আয় দিয়ে পুরো বছর তাদের সংসার চলে। চার-পাঁচ মাস ও দিনে পাঁচ হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণে যাওয়ার অনুমতি পেলে পর্যটননির্ভর মানুষের দুর্দশা অনেকটা কেটে যাবে।
যদিও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হবে। তবে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটককে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে, যা নিবন্ধনভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হবে। পর্যটন মৌসুম ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ অনুমোদিত হবে, আর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রাত যাপন করার সুযোগ থাকবে বলেও তিনি জানান।
সেন্ট মার্টিন হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিবলী আজম কোরেশি বলেন, ‘কখন পর্যটক আসবেন, জাহাজ চলবে কিনা—এ বিষয়ে এখনো কোনো বার্তা নেই। এতে ব্যবসায়ীরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।’
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও পর্যটন মেলাসহ নানা আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কক্সবাজার ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এখন সারা বছরই পর্যটক আসছে। তাই মৌসুম নিয়ে বিশেষ তোড়জোড় নেই। তবে সেবার মান যেন বজায় থাকে, সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সৈকত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সারা বছরই নিরাপত্তা থাকে, তবে এখন আরো জোরদার করা হয়েছে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এবারের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গত বছরের নিয়মেই পর্যটক পরিবহন চলবে।’










