আগামী তিন বছরের জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নিলেন ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। শপথ কার্যক্রম পরিচালনা করেন দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশনের প্রধান এটিএম মা’ছুম।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণের সময় তিনি বারবার কাঁদছিলেন। শপথ শেষে বক্তব্য দেয়ার সময় জামায়াত আমির বলেন, ‘রাজনীতিতে বিভাজন, মেজরিটি-মাইনরিটির সংঘাত ও বিদ্বেষ থেকে বেরিয়ে এসে দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দুর্নীতি আর দুঃশাসনের কারণে জনগণ গত ১৫ বছর সুফল পায়নি। আলেম সমাজসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ছিল মজলুম। এমনকি অনেকের জন্য জেলখানাই ছিল প্রথম আশ্রয়স্থল। বাংলাদেশ রাজনীতির দীর্ঘদিনের কালো ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছে।’
এর আগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর প্রথমবার এবং ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর দ্বিতীয়বার আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান। ২ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তৃতীয় মেয়াদে ডা. শফিকের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
দলের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে আমির পদে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের তালিকায় এর আগে ছিলেন কেবল অধ্যাপক গোলাম আযম ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ১ নভেম্বর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমির নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী গত ৯ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশের রুকনদের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। গোপন ব্যালটে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ২০২৬-২৮ কার্যকালের জন্য পুনরায় আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ (বর্তমান এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখা ও সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং পরে সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে তিনি দলটির সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন।










