খুলনা নগরীর ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ সড়কের ফুটপাত এখন এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের দখলে। ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। ফুটপাতের প্রভাব পড়ছে মূল সড়কে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এডিসি বিমল কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, নগরীকে যানজটমুক্ত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিগগিরই কেসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর স্যার ইকবাল রোড, কেডি ঘোষ রোড, ক্লে রোড, হেলাতলা রোড, পুরাতন যশোর রোড, পিকচার প্যালেস মোড় থেকে হাদিস পার্ক পর্যন্ত যশোর রোড, কালীবাড়ী রোড, কেডিএ অ্যাভিনিউ, ফারাজী পাড়া মেইন রোড, মজিদ সরণি, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে গল্লামারী পর্যন্ত, গল্লামারী বাইপাস রোড, খালিশপুরের বিআইডিসি রোড (কদমতলা মোড় থেকে গাবতলা পর্যন্ত), দৌলতপুরের
বিএল কলেজ মোড় থেকে মহসিন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছেন এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী।
নগরীর এসব সড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত। এ সড়কগুলোয় প্রতিদিন শতশত বিভিন্ন যানবাহন ও হাজারো পথচারী চলাচল করে। ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে, যানজটে পড়ছে নগরবাসী।
নগরীর বড়বাজার এলাকার ক্লে রোড, হেলাতলা রোড, স্টেশন রোড, পুরাতন যশোর রোড ও কেডি ঘোষ রোডের দুই পাশের সড়কের ফুটপাত এবং ফুটপাতসংলগ্ন সড়কের ওপর কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র, ফলের দোকান, মনিহারি সামগ্রী, টি-স্টল, পুরি-শিঙ্গাড়া, ঘড়ি মেরামত, মাছ-তরকারিসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে ফুটপাত দখল করে দিব্যি ব্যবসা চলছে।
খালিশপুরের ব্যস্ততম সড়ক বিআইডিসি রোডের দুই পাশে স’মিল মালিকরা ফুটপাত দখল করে গাছের গুঁড়ি ও কাঠ রেখে ব্যবসা করছেন। গাবতলা মোড় থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে ব্যবসা করছেন। দৌলতপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়কের ফুটপাত দখল করে চলেছে নানা ধরনের ব্যবসা। ব্যস্ততম এসব সড়কের ফুটপাত ও সড়কের অংশবিশেষ দখল হওয়ায় যানবাহন ও পথচারী চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
ফুটপাত দখলকারী বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ফুটপাত ব্যবসায়ীরা তাদের পেছনের বড় দোকানমালিকদের প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন। পুলিশ বা অন্য কোনো ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানমালিক জানান, তারা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশকে টাকা দিয়ে থাকেন। নগরীতে ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এসএম ফজলুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতা নিয়ে শিগগির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।
নগরীর ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তোলার বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, শিগগিরই অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।










