ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে খুলনার কয়রা উপজেলায় বাঁধ ভেঙে উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই গ্রামের অনন্ত ২০০ পরিবার। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে তাদের এলাকার বাঁধ ভেঙেছে। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শাকবাড়িয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বেড়ে যায়। এতে গত শনিবার রাতে হরিহারপুর লঞ্চঘাটের পূর্বদিকের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এর আগেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাঁধটি ভাঙনের মুখে পড়েছিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগেরবার স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের ভেঙে যাওয়া পয়েন্টটি মেরামত করেছিল। একই স্থানে পাউবো ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু তারা যথাসময়ে সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করায় আবার ভেঙে গেছে।

বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরো বলেন,  হরিহরপুর লঞ্চঘাটের পূর্ব দিকে বেড়িবাঁধের কাজটি মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কালাম নামে এক শ্রমিক সাব কন্টাক্টে কিনে নেয়। কিন্তু মাটি দিয়ে স্লাবের কাজ না করে টিউবে বালি ভরে রিং বাঁধ দেয়। টিউবের তলাদেশে ছিদ্র থাকায় রিং বাঁধটি ভেঙে গেছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ ২) উপসহকারী প্রকৌশল মশিউল আবেদিন বলেন, বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া আছে। ৪১০ মিটার পর্যন্ত টিউব দিয়ে রিং বাঁধ ও মাটি দিয়ে স্ল্যাব নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্য ওই এলাকার মানুষকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রামের পানিবন্দি মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা ও কম্বল দেওয়া হয়েছে।