নাটোরের লালপুরের পদ্মার চরে ২০০ একর আবাদি জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় বন বিভাগ। চরাঞ্চলের আবাদি জমি কমে আসা ও পৈতৃক সম্পত্তি দেখিয়ে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন স্থানীয় কৃষক। একই সঙ্গে এসব জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলেও দাবি তাদের।
লালপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলে বনায়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৭ একর জমিতে ৩৭ হাজার ৫০০ গাছ রোপণের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। এজন্য চরেই এক লাখ গাছের চারা উৎপাদন করেছে বন বিভাগ। এ এলাকায় পানিসহিঞ্চুসহ অন্তত ৮-১০ ধরনের গাছের চারা রোপণ করবে বন বিভাগ।
লালপুর বন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ বলেন, ৫ জুন স্থানীয় উপজেলা পরিষদ থেকে বন বিভাগকে চর মাহাদিয়ার প্রায় ২০০ একর খাস জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। লাল নিশানা টাঙিয়ে জায়গাটি বুঝে নিয়েছে বন বিভাগ। কিন্তু কৃষক তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে এতে বাধা প্রদান করছে।
কৃষকরা বলছে, বন বিভাগ তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করছে। বর্তমানে এসব জমিতে বাদামসহ বিভিন্ন সবজি এবং ফসল উৎপাদন করে তারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। এসব জায়গায় বনায়ন করা হলে চরাঞ্চলে আবাদি জমি কমে যাবে। এতে করে কৃষক বেকার হয়ে পড়বেন। তাছাড়া বন বিভাগ যে জায়গায় বনায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে, সেটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে, এতে করে সরকারের উদ্যোগ সফল হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালপুরের চর মাহাদিয়ার যে জায়গাকে খাস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেসব আগে ব্যক্তিমালিকানার জায়গা ছিল। একসময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর চর জেগে উঠলে সেখানে ফসল উৎপাদন করে আসছেন কৃষক। তাদের দাবি, বিগত সব রেকর্ডে তাদের নাম রয়েছে। কিন্তু বিএস রেকর্ডে এসে সরকার এগুলোকে খাসজমি দাবি করছে।
এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী কৃষক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন চর মাহাদিয়ার অঞ্চলে স্থানীয় কৃষক এসব জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এখন সেখানে বনায়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বন বিভাগ। কৃষকদের পক্ষ থেকে গাছ লাগানো বন্ধের একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বনায়ন প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে।










