তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৌলভীবাজারের বোরো ধানের বীজতলা। চারা রক্ষায় বিভিন্ন কীটনাশক ও ওষুধ প্রয়োগ করেও মিলছে না সমাধান। তবে কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক নিয়মে ওষুধ ও সময়মতো সেচ প্রদানের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, বড়লেখা ও কুলাউড়ার হাওড় অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর মধ্যে রাজনগরে ২০০ হেক্টর ও জেলার অন্যান্য উপজেলায় আরো প্রায় ১০০ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।
সরেজমিন জেলার রাজনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বীজতলার রঙ হলদে বাদামি হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে বিবর্ণ হয়ে মারা গেছে কচি চারা।
রাজনগর উপজেলার সুনাটিকি গ্রামের কৃষক দারা মিয়া জানান, তিনি পাঁচ একর জমিতে এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। চারা গজানোর পর সাদা ও লালচে হয়ে বিবর্ণ ধারণ করেছে।
একই উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের চাষী ফয়জুল মিয়া জানান, প্রায় ৩০ শতক জমিতে তিনি বোরো ধানের চারা লাগিয়েছেন। এর মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এক ধরনের পোকার আক্রমণে বোরো ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। এ পোকার আক্রমণের ফলে নতুন গজিয়ে ওঠা চারার রঙ ফ্যাকাসে হয়ে মারা যাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই অবস্থা আরো কিছু জায়গায়। তবে রাজনগর উপজেলার হাওড়াঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলছে না সমাধান। এতে কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বীজতলা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
রাজনগর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এটা কোল্ড ইনজুরির প্রভাব। মৌসুমের প্রথম দিকে ঘন কুয়াশা ছিল এবং সূর্যের আলো অপর্যাপ্ত থাকার কারণে বীজতলায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়। আবহাওয়া উন্নতি হওয়ায় এবং কুয়াশা অনেকটা কেটে যাওয়ায় বীজতলার সমস্যা কেটে গেছে।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। আমরা চাষীদের আশ্বস্ত করেছি। জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বীজ মজুদ রয়েছে। আর নতুন করে কোনো চারা জমিতে কোল্ড ইনজুরির প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৫৪ হাজার ৩৩৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর। এর মধ্যে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ হয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুত্ফুল বারী বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩২০ হেক্টর বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তাই কিছু কিছু জায়গায় বোরো চারায় যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল সেটা আবাদের লক্ষ্যমাত্রায় প্রভাব ফেলবে না। তাছাড়া অনেকে এখনো কিছু জমিতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।










