বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশকে অকার্যকর করে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনে নিরাপত্তহীনতা সৃষ্টি করাসহ অস্থিতিশীলকারীদের আমি হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। এই মুহূর্ত থেকে হামলা ও নৈরাজ্য বন্ধ করুন। এমনকি বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করতে চাইলে তাকে ধরে আইনের হাতে তুলে দিন। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

আজ বুধবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ অপরিহার্য। পুলিশ জনগণের শত্রু নয়। শেখ হাসিনা নিরাপদে ক্ষমতায় থাকার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি পুলিশের ভেতরে একটি চক্র ছাড়া অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা দেশের আইন মেনেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশে এবং প্রবাসে অনেক ভাই বোনেরা রয়েছেন যারা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে এবং অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিজ্ঞদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট হতে চান না। এসব গুণী মানুষদের রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নীতি প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ চালু করার প্রস্তাব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রেখেছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে না পারলে আজকের এই বিপ্লবের কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।

তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। শাসন, প্রশাসন সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা সবচেয়ে গুরুত্বপর্ণ দাবি। জ্ঞান ভিত্তিক রাষ্ট্র সমাজ বির্নিমানের লক্ষ্যে নিয়োগ কিংবা প্রমোশনে জ্ঞানভিত্তিক অগ্রাধিকার থাকতে হবে। আমদানী ও বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা কমাতে হবে। এরপরে কৃষি উৎপাদন এবং উৎপাদনে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়াতে হবে। কর্ম সংস্থান তৈরি করে বেকার সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষা চালু করে দেশে-বিদেশে শ্রম বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থা আধুনিক এবং বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। সবার জন্য বিচার নিশ্চিত করতে আইনের শাসন নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন।