রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার সব ব্যবস্থা করে রাখা হলেও সে ধকল সামলানোর মতো অবস্থায় তিনি নেই বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাই হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। যদিও বিজয়ের মাসে মশাল রোড শো কর্মসূচি ঘোষণা করতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিন্তা করে দেখা হবে।’ এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে গতকাল রাত ৯টার দিকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের অবস্থা গত তিনদিন ধরে একই পর্যায়ে আছে। দেশ ও বিদেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ পেলেই ওনাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত রোববার তাকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। তিনদিন ধরে তার অবস্থা আরো খারাপের দিকে যায়। সংকটপন্ন বিএনপি নেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার লন্ডন নেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে গতকাল দুপুরে জানান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
পরে অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের চিকিৎসক এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে মেডিকেল বোর্ড জানায় যে চিকিৎসার জন্য ওনাকে বিদেশে নেয়া প্রয়োজন।’
শারীরিক সামর্থ্যের কারণে বিদেশ নেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত না হলেও সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিদেশে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা, যেসব দেশে নেয়া হতে পারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। যেন প্রয়োজন হলেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়।’
এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড় না করার অনুরোধ জানান দলের মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় সব মানুষই উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত হচ্ছেন। বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) এবং অন্যান্য যারা রোগী আছেন তাদের চিকিৎসা কাজ চালাতে সমস্যা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে আপনারা কেউ দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা সময়মতো সব জানাব।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরার কারণ নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রে উত্তরণের এ সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্থতা এবং একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে রাষ্ট্রপতি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন বলে তার সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়।
গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিভিন্ন দলে নেতারাও।










