গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধানের ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণে একটি বড় আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সাজার মাত্রা যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তবে অপরাধী নিজেকে আড়াল করতে ভিকটিমকে হত্যার মতো চরম অপরাধের দিকে ধাবিত হতে পারে। এ প্রবণতাকে ‘রিভার্স ইনসেন্টিভাইজেশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
আজ রোববার বিকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গুম সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজন সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাজা নির্ধারণের জটিলতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা আটকে রাখার সাজা যদি সর্বনিম্ন ১০ বছর হয়, তবে অপরাধী সাজা এড়াতে ভিকটিমকে মেরে ফেলার দিকে উৎসাহিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অপরাধী মনে করতে পারে, হত্যা করে মরদেহ গুম করে দিলে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। কারণ কিল করলে আসলে বেশিরভাগ ধরা পড়ে না।
এ দ্বিমুখী সংকট সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীকে এ বার্তা দেয়া প্রয়োজন যে, ভিকটিমকে জীবিত ছেড়ে দিলে সাজা কম হতে পারে। অন্যথায়, অপরাধীর হাতে ভিকটিমের জীবন-মৃত্যুর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকায় সে নিজেকে বাঁচাতে খুনের পথ বেছে নিতে পারে।
সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য ও অসামঞ্জস্য দূর করতে আইন কমিশন একটি ‘সেন্টেন্সিং গাইডলাইন’ তৈরির কাজ করছে বলে সভায় জানান মন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে গুমের ঘটনাগুলোকে ‘অর্ডিনারি’ এবং ‘সিস্টেমেটিক’— এ দুই ভাগে ভাগ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লেজিসলেটিভ এবং সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। এছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সানজিদা ইসলাম তুলি, তাহসিনা রুশদীর লুনাসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা।










