নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণটি লাইনে লিকেজের কারণে ছড়িয়ে পড়া মিথেন গ্যাসে বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এটি এসির বিস্ফোরণ নয়। 

ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্স অফিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এসির বিস্ফোরণ ঘটলে প্রতিটি এসি ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত। এসিগুলো যেখানে সাঁটানো হয়েছে সেই দেয়ালে কালো ছাপা পোড়া দাগ থাকতো। কিন্তু মসজিদের দেয়ালে সেটি দেখা যায়নি। আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং এসি খুলে যেটি দেখেছি, আগুনের তাপে মসজিদের ৬টি  এসি গলে গিয়েছে। যদি এসি থেকে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতো তবে সেগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তো। কিন্তু সেটি হয়নি। 

ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, তদন্ত কমিটির কাজ শুরু করেছে। সবে দুইদিন পার হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং এসি খুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। আমরা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলব। মসজিদ কমিটিসহ ঘটনার সময় উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলবো। সেই সময় কী ঘটেছিল, কী কারণে ঘটেছিল, বিদ্যুৎ, গ্যাস, মসজিদ নির্মাণ ত্রুটিসহ সব বিষয় সামনে নিয়ে এসে আমরা খতিয়ে দেখব। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান আরো জানান, মসজিদের ভেতর গ্যাস উদগীরণের বেশ কিছু আলামত চোখে পড়েছে। মসজিদের গেট সংলগ্ন পানিতে, টাইলসের ফাঁক দিয়ে গ্যাসের উদগীরণ দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের গ্যাস ডিটেক্টর মেশিন দিয়ে আমরা মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পেয়েছি। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে আগুন ধরে বা বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে সবকিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়। 

ফায়ার সার্ভিসের অপর একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদ বিস্ফোরণের পর গ্যাস ডিটেক্টর মেশিন দিয়ে মসজিদের ভেতরে ১৯ শতাংশ মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি থাকলে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। 

গত শুক্রবারের বিস্ফোরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এখনো গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন ১৩ জন।