তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধায় তিস্তার পানি কমলেও তিনটি নদীর পানি বাড়ছে। কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি কমলেও বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে তীব্র ভাঙনে নদীতীরবর্তী আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। একই অবস্থা কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বরুহা গ্রামে। এ গ্রামে মানুষের ঘুম ভাঙে নদীর গর্জনে, আর দিন শেষ হয় নতুন করে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
গাইবান্ধা: প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের মধ্যেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চলমান পানি বৃদ্ধি শুরুর পর থেকে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা এলাকা। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে এরই মধ্যে এসব এলাকার সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি ও বিপুলসংখ্যক গাছপালা। এছাড়া ভাঙনের শিকার হয়েছে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর ও উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এলাকা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির প্রভাবে গাইবান্ধার বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা ও ঘাঘট নদীতীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।’
কিশোরগঞ্জ: তাড়াইল উপজেলার বরুহা গ্রামে একদিকে নদীর অব্যাহত ভাঙন, অন্যদিকে শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষার চেষ্টায় মরিয়া মানুষ। বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, আবাদি জমি ও জীবনের সঞ্চয় একে একে তলিয়ে যাচ্ছে নদীতে। এলাকাবাসী জানান, এখন অনেক মানুষ ঘরবাড়িহীন। তিন-চারশ পরিবারের থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। নদী ভাঙতে ভাঙতে সব নিয়ে গেছে। উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বরুহা গ্রামের সওদাগরপাড়া থেকে রাজঘাট পর্যন্ত নরসুন্দা নদীর তীরঘেঁষে প্রায় তিন-চারশ পরিবারের বাস। নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই ছোট হয়ে আসছে তাদের বসবাসের জায়গা। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক পরিবার নিজেদের শেষ সম্বলটুকু সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এ ভাঙনের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি, শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা পাব। এরপর সে অনুযায়ী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম: দুধকুমারের পানি কমলেও গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাটেশ্বরী পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।










