রোপা আমন বৃষ্টিনির্ভর ফসল। সাধারণত জুলাই-আগস্টের মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। তবে বিলম্বে রোপণ করা গেলেও ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকে। চলতি মৌসুমে ঝালকাঠির রাজাপুরে কৃষক বীজতলা তৈরি করলেও টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। চারা সংকটে বেশির ভাগ জমিতে এখনো আবাদ হয়নি।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। বাকি ৪০ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে এখনো আবাদ করা যায়নি, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশ।
অবশ্য কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি কমে গেলে এবং অন্য জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। তবে কৃষকদের আশঙ্কা, অনেক জমিই এবার অনাবাদি থাকতে পারে। এছাড়া শ্রমিক সংকটসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় বাড়তে পারে উৎপাদন খরচ।
উপজেলার বাগড়ি গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন, হাকিম, নূরনবী ও আফজাল জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ বীজতলাই নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হয়নি। এখনো নিচু এলাকায় পানি জমে রয়েছে। অনেক জমিতে পানি থাকায় চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। চড়া দামেও চারা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শ্রমিক সংকট, সার-কীটনাশক ও ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে তুলনায় বাজারে ধানের দাম বাড়েনি।
শুক্তাগড় গ্রামের কৃষক শাহিন জানান, জলাবদ্ধতায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকার কৃষক বাবুল হোসেন জানান, চারা পাওয়া যাচ্ছে না। যা-ও পাওয়া যাচ্ছে, দাম বেশি। সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। চাষাবাদ করে এখন লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চারা সংকট রয়েছে। তবে অন্য এলাকা থেকে সংগ্রহ করে চাহিদা পূরণ করা হবে। তাছাড়া কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যাতে এক এলাকার কৃষক অন্য এলাকার কৃষকের কাছ থেকে চারার সংগ্রহ করতে পারেন। ফলন ও উৎপাদন ঠিক রাখতে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উঁচু এলাকার বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে চারার চাহিদা পূরণ করা হবে। উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’










