চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত শাহ আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়, সেই বার্তাই তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।
গতকাল হাটহাজারী উপজেলায় আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমেদ কাশেশী ও শায়খুল হাদিস শেখ আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি নেতারা। এর আগে দুপুরে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় জুমার নামাজ আদায় করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনারা জানেন, বিএনপির নেতৃত্বেই ১৬ বছর ধরে বিরোধী দলগুলো আন্দোলন চালিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি শহীদ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মামলা-হামলার শিকার হয়েছে বিএনপি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি এ লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড শাপলা চত্বরে হয়েছে। সেদিন নিহত অনেকের তালিকা এখনো হয়নি। যারা গুম হয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি।’ ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ফ্যাসিস্ট হটাও আন্দোলনে হেফাজতে ইসলাম নেতৃত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেও অনেকের নাম নেই। অনেক লাশের কবরের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ ও পরামর্শে হেফাজতে ইসলামের আমির আমাদের মুরব্বির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছি। এখানে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই। কারণ ফ্যাসিস্ট হটাও আন্দোলনে তাদের অবদান রয়েছে।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন—সবার সঙ্গে বিএনপি যোগাযোগ রাখবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।










