ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেগম রোকেয়া হলে ফাটল দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ফাটল ধরে। এ ছাড়াও হলটির চামেলি ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ফাটল, পলেস্তারা ও রং উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে হলে বসবাসরত ছাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর হলের ছাত্রীরা আকস্মিক শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস খোঁজ করতে গিয়ে তারা চামেলি ভবনে ফাটল আবিষ্কার করেন। ঘটনাটি হল প্রশাসনের নজরে আনলে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শন করেন। কিন্তু বড় ধরনের কোনো কারণ তারা খুঁজে পাননি। অবশ্য, হলে ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন প্রকৌশলীরা। হলটিতে সাত শতাধিক ছাত্রী বসবাস করেন।

রোকেয়া হলের চামেলি ভবনের নিচতলায় বসবাসকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ তার রুমের দেয়ালে সাঁটানো কাগজ শব্দ করে খুলে পড়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন, একই ঘটনা ভবনের অনেক কক্ষেও ঘটেছে। কোনো কোনো কক্ষের দেয়াল, ছাদ ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। চামেলি ভবনের প্রায় সব রুমেই একই অবস্থা।

হল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুক্রবারের ঘটনার পর দফায় দফায় প্রকৌশলীরা হলে এসে পরিদর্শন করেছেন। তাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। গতকালকের ঘটনার পর চামেলি ভবনের বিভিন্ন তলায় দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, রং উঠে যাচ্ছে। প্রকৌশলীর পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়া- এটাই সমাধান কিনা, সে প্রশ্ন তোলেন তারা।

উদ্বিগ্ন এক শিক্ষার্থী বলেন, সাত শতাধিক শিক্ষার্থী মনে ভয় নিয়ে হলে বসবাস করছেন। আতঙ্কে তারা ঘুমাতে পারছেন না। হাউজ টিউটররা শিক্ষার্থীদের অভয় দিচ্ছেন। কিন্তু, গত দিনের ঘটনা কী আরেকটি জগন্নাথ হল ট্র্যাজিডি ঘটার জন্য যথেষ্ট নয়?

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছন হলের প্রিন্সিপাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কর্মকর্তা সালমা আখতার। তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ভবনটি পরিদর্শন করেছি। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, সংশ্লিষ্ট হাউজ টিউটরসহ প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে, ফাটলের ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মুছা চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেরাজ উদ্দিন ও মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে একদল প্রকৌশলী পাঠানো হয়।

পরিদর্শন শেষে আহসান হাবিব জানান, সমস্যা বোঝা না গেলেও তারা ভবনটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এ কে এম মুছা চৌধুরী জানান, ভবনের সমস্যা ভালোভাবে বোঝার জন্য তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়েছেন। ফাটলের ঘটনার কারণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন তৈরী করতে প্রকৌশলীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।

আজ শনিবার সকালে রোকেয়া হলের চামেলি ভবন পরিদর্শনে যান বুয়েট প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ। এ ব্যাপারে কথা হলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, যেহেতু একাধিক কক্ষের বেশকিছু শিক্ষার্থী একই অভিযোগ করেছেন, সেহেতু আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটেছে যা একেবারে উড়িয়ে দেয়া সম্ভব না। তবে স্পষ্ট কোনো আলামত আমাদের চোখে ধরা পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, কোনো ভবনের সহনশীলতার চেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, পাশে ভবন নির্মাণ, গর্ত খোঁড়ার কারণে এমন হওয়ার কথা ছিল। আবার সম্প্রতি ভবনটি বর্ধিতও করা হয়নি। তবে তিনটি কারণে ওই ভবনে সমস্যা হতে পারে। প্রথমত, এটি ৩০ থেকে ৪০ বছরের পুরোনো। দ্বিতীয়ত, ওই সময় ভবনের পাশের রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল প্রভাব। তৃতীয়ত, বিল্ডিংয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে সমস্যা দেখা দেয়া। কারণ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, দেয়াল থেকে শব্দ বের হয়েছে।

বর্তমানে ভবনে বসবাসের ঝুঁকির বিষয়ে ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আমার মনে হয়, আপাতত কোনো ঝুঁকি নেই, তবে তৈরী হতে পারে। শুক্রবার যে শব্দটা হয়েছে এটার সূত্র ধরে ঝুঁকি তৈরী হওয়া স্বাভাবিক।

ভবনে বসবাসের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসনের কী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আগামীকাল (রোববার) প্রতিবেদনের মধ্যে তা জানানো হবে।