পৈত্রিক ভিটে নিয়ে বিরোধের জেরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক প্রবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শামীম আহমদ উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকন্দপুর গ্রামে মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। মাসখানেক আগে ‍তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন।

পুলিশ, স্থানীয় ও নিহত প্রবাসীর স্বজনরা জানায়, কয়েক বছর আগে প্রবাসী শামীম উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকন্দপুর গ্রামে নিজের পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে বসবাস করেন। তার দুই ভাই পৈত্রিক ভিটায় থাকেন। সেই সুযোগে শামীমের চাচাতো ভাই একই এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে সুফিয়ান আহমদ পৈত্রিক সম্পত্তির তার অংশটি দখলের পাঁয়তারা করে। এনিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সুফিয়ান ও তার পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। 

শামীম মাসখানেক আগে দেশে আসেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তিনি মুকন্দপুর পৈত্রিক বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার জমির অংশে সুফিয়ান খড়ের গাদা রেখেছে। এগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য সুফিয়ান ও তার পরিবারকে বলেন। এসময় সুফিয়ানসহ পরিবারের লোকজন  লাঠি হাতে এসে শামীমের উপর চড়াও হয়। মারধরের চোটে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে শামীমের স্বজনরা দৌড়ের এসে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর থেকে সুফিয়ান পলাতক। পুলিশ তাৎক্ষণিক সুফিয়ানের পরিবারের দুই নারী সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে।

নিহত শামীম আহমদের ভাই আব্দুল মন্নান বলেন, সুফিয়ান আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে রেখেছে। এনিয়ে বিভিন্ন সময় সে ও তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে হুমকি দিতো। তার ভয়ে আমার ভাই অন্য ইউনিয়নে বাড়ি বানিয়ে চলে যান। সুফিয়ান আমাদের ভাইয়ের অংশ দখল করে ভোগ করছিল। এনিয়ে ইউপি চেয়াম্যাস ও মেম্বাররা বিচার করলেও সুফিয়ান কোন বিচার মানেনি। উল্টো তাদের হুমকি দিতো। 

কুলাউড়া থানার ওসি বলেন, সুফিয়ানকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। শামীম আহমদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।