কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমিত করলে পর্যটন শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেছে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)। গতকাল দুপুরে কক্সবাজার শহরে লাবণী পয়েন্টের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কোয়াব সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। উপস্থিত ছিলেন কেয়ারির প্রতিনিধি নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) প্রতিনিধি এস এ কাজল।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল সীমিত করার চিন্তা করছে বিআইডব্লিউটিএ। মাত্র দুটি জাহাজ চললে কয়েক হাজার পর্যটক দ্বীপটি দর্শন থেকে বঞ্চিত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো পর্যটন শিল্পে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ব্যবসা। জাহাজ চলাচল বন্ধ হলেও বিকল্প পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের নৌকায় চড়ে সেন্ট মার্টিন যাবেন পর্যটকেরা। সুতরাং যে উদ্দেশ্যে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হচ্ছে তার কোনো সুফল আসবে না। বরং ঝুঁকি বাড়বে পর্যটন খাতে। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা দরকার বলে মনে করেন স্কোয়াব প্রতিনিধিরা।
লিখিত বক্তব্যে স্কোয়াব নেতা বাহাদুর বলেন, আমরা জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ ও হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের সুরক্ষায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব থেকে দ্বীপকে রক্ষার জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছি। দুই বছর আগে করোনা মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাহাজে পর্যটক ওঠানামা ও পারাপার করে আসছি। সেন্ট মার্টিনে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর থাকায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। কারো করোনা শনাক্তও হয়নি। এ নিয়ে প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। সেন্ট মার্টিনকে করোনামুক্ত রাখতে জাহাজ মালিক-কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তিনি আরো বলেন, সেন্ট মার্টিন ঘিরেই এক-তৃতীয়াংশ পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। কিন্তু সেন্ট মার্টিনে যদি পর্যটক সীমিত করা হয়, তাহলে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল ও ব্যবসা এবং পর্যটন খাতে লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগে ধস নামবে।










