জাতির উদ্দেশে ৬ জুন দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন এবং জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

গতকাল এক বিবৃতিতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বলেছে, তিনি (ড. ইউনূস) নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করেছেন, তাতে নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা অনেকাংশে দূর হলেও এপ্রিলের আবহাওয়া, রমজান, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা ইত্যাদির কারণে এ সময় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কোনো রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা এ বক্তব্যে তুলে ধরেননি।

এতে আরো বলা হয়, মানবিক করিডোর না দেয়ার প্রসঙ্গে তার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানোয় জনমনে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে কিন্তু বন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার ভাষা রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি তৈরি করেছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কারের জন্য বিল উত্থাপনের অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আদায়ের যে পরামর্শ জনগণকে তিনি দিয়েছেন, একদিকে তা বিভ্রান্তিকর আর অন্যদিকে তা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

সংবিধান সংশোধনের যে ক্ষমতা বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদের কাছে দেয়া আছে, সেই পদ্ধতির অপব্যবহারের সঙ্গে বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের বিস্তারের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এ দেশের জনগণ সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদের জন্য অভ্যুত্থান করেছে পুনরায় সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা সংবিধান সংশোধন এবং সংবিধান সংস্কারের পার্থক্যকে গুলিয়ে ফেলেছেন। তিনি ভুলে গেছেন, সংসদ আইন প্রণয়ন এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা বা এখতিয়ার সংসদের নেই, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা সংস্কারের ক্ষমতা কেবল জনগণের বা জনগণের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংবিধান সংস্কার সংসদের।

যেসব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ১৯৭০ সালের মতো একই ভোটে সংবিধান সংস্কার সভা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।