ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন বাঁক তৈরী করেছে। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই জয়ের ভেতরে তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় হল সাতজন নারী প্রার্থীর সংসদে প্রবেশ।
নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, ৩০০ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ১৭ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৪ জন অর্থাৎ মোট প্রার্থীর প্রায় ৪ শতাংশ। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ৬৬ জন নারী, স্বতন্ত্র ছিলেন ১৯ জন।
এর মধ্যে, মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা সদরের আট ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর (রিকশা) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।
ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনের ১৪৭ কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটসহ বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে আলোচিত জয় পেয়েছেন ‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭৯ হাজার ৩২১ ভোট বেশি।
ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল বিজয়ী হয়েছেন। নাটোর-১ আসনে জয় পেয়েছেন ফারজানা শারমিন পুতুল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে তিনি ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।
ইসিতে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৬৪ জনই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (৩২ জন)। পেশাগতভাবে প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী কর্মজীবী।














