ভূমির প্রকৃতি ও আইনগত জটিলতা, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে পিছিয়ে গেছে খুলনার তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব। তবে নতুন অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে খুলনার রূপসা সেতুর পাশে ৬৩৯ একর জমিতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে এ এলাকা ঘুরেও গেছেন। প্রস্তাবিত জমি, মূল্য ও অন্যান্য বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খুলনায় অর্থনৈতিক অঞ্চল দুটি তৈরির প্রস্তাব অগ্রাধিকার তালিকার নিচে চলে গেছে। অর্থনৈতিক জোনের তালিকায় বটিয়াঘাটার অবস্থান ৪২ এবং তেরখাদার অবস্থান ৪৩ নম্বরে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে। এ দুটি উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ শুরু করতে আরো অনেক বছর লাগবে।

এ অবস্থায় গত বছর খুলনার সে সময়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন খুলনার রূপসা সেতুর পাশে জাবুসা মৌজায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠান। প্রস্তাবে উপজেলায় প্রায় ৬৫০ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, মহাসড়ক ও নৌপথের পাশে হওয়ায় এখানে দ্রুত ভূমি উন্নয়ন করা যাবে। সার্বিক উন্নয়ন ব্যয় কম হবে। অনুমোদন পেলে দ্রুত এখানে কাজ শুরু করা যাবে।

খুলনা জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বরে বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা মৌজা পরিদর্শন করেন। প্রস্তাবিত স্থান দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বেজার নির্বাহী কমিটির সভায় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর জমির প্রকৃতি ও মূল্য নির্ধারণ করে জানানোর জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে বেজা।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনকে ভূমির প্রকৃতি ও মূল্য জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, রূপসা উপজেলার ৯১ নং জাবুসা মৌজার ৬৩৯ দশমিক ১৯৫৮ একর জমিতে খুলনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে ৬১৭ দশমিক ২৩২৫ একর, সরকারি জমি ১৪ দশমিক ৬১৩৩ ও অর্পিত সম্পত্তি ৭ দশমিক ৩৫ একর।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, ৬১৭ একর ব্যক্তিমালিকানা সম্পত্তির সম্ভাব্য অধিগ্রহণ ব্যয় ১ হাজার ৭৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬২৫ টাকা। অর্পিত সম্পত্তির অধিগ্রহণের ব্যয় ১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অর্থাৎ সরকারি জমি বাদে অন্য ৬২৪ একর জমির অধিগ্রহণের সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

খুলনা জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হলেও খুলনা পিছিয়ে ছিল।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য মহাসড়কের পাশে, নৌপথ ও বিমানবন্দরের কাছাকাছি জমি খুঁজতে বলা হয়। কিন্তু তেরখাদা ও বটিয়াঘাটায় এ সুবিধা নেই। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠতেও অনেক সময় লাগবে।

তিনি বলেন, খুলনার কাজ দ্রুত শুরু করতে নতুন জমির অনুসন্ধান করা হয়। এ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রূপসার জাবুসা মৌজায় অর্থনৈতিক জোন তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাব অনুমোদন হলে এখানে তাড়াতাড়ি শিল্পায়নও সম্ভব।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য রূপসার জমিটি বেশি উপযোগী। করোনার কারণে কাজ কিছুটা থমকে গেছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তে পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে। রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চলমান। মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৭ সালে ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণকাজ চলছে। অর্থনৈতিক জোন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বন্দরভিত্তিক যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, তাতে এরই মধ্যে বিনিয়োগের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মোংলা ইপিজেডে একের পর এক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠছে। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিল্প ও বিনিয়োগে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলে পাল্টে যাবে অর্থনীতি। বাড়বে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। তৈরি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।