খুলনা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়ক প্রায় তিন বছর ধরে বেহাল অবস্থায়।
সড়কগুলোর অধিকাংশ জায়গায় বিটুমিন উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
একটু বৃষ্টিতেই খানাখন্দে ভরা সড়ক তিনটিতে পানি জমে প্রায়ই যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা।
তবে এ নিয়ে যেন কোনো ভাবান্তর নেই সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর।
শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক সড়ক, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালসংলগ্ন সংযোগ সড়ক ও শিপইয়ার্ড সড়ক খুলনা নগরীতে আসা-যাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন এ সড়ক তিনটি দিয়ে ছোট-বড় হাজারো যানবাহনসহ লাখো মানুষের চলাচল।
এর মধ্যে শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক সড়কটি গোয়ালখালীর বাস্তুহারা এলাকা থেকে সিটি বাইপাস পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের।
সড়কটির পাশে গড়ে উঠেছে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল।
বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর, নৌবাহিনীর ঘাঁটি (বানৌজা তিতুমীর), বিএনএন
স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অ্যাংকরেজ স্কুল, নৌবাহিনী ভর্তিকেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নগরীর বাইরে সহজ যাতায়াতের জন্য ২০০৩-০৪ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোড।
তবে নির্মাণের পর সড়কটি সংস্কারে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ফলে অনেক আগেই বিটুমিন উঠে সড়কে কাদা-বালি জমে কাঁচা রাস্তার মতো হয়ে গেছে।
এছাড়া রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্তে বৃষ্টির সময় পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোট ছোট ডোবায়।
শহর সম্প্র্রসারণের জন্য সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালসংলগ্ন সংযোগ সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
২ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার লম্বা ওই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা।
দুই বছরেই শেষ হয় কাজ।
তবে কিছুদিনের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।
কয়েকবার মেরামত করেও তা টেকেনি।
বাসচালক শহিদুল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে চাকা আটকে যায়।
অনেক সময় গাড়ি উল্টেও পড়ে।
গাড়ির টায়ার খুব দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।
কাদাপানিতে গাড়ির অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।
২০১০ সালে নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে শিপইয়ার্ডের সামনে দিয়ে রূপসা সেতু পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হয়, যা শিপইয়ার্ড সড়ক নামে পরিচিত।
প্রায় চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর সড়কটি প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
২০১৩ সালে প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন মেলে।
কিন্তু আট বছরে তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও এখনো প্রকল্প বাস্তবায়নকাজ শুরু করা যায়নি।
যার কারণে প্রকল্পের ব্যয় ৯৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৫৯ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।
একই সঙ্গে বেড়েছে সড়কে খানাখন্দ ও দুর্ভোগ।










