উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টিতে চলতি মাসের প্রথম থেকেই সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। তবে কখনো আবার পানি কমতেও দেখা গেছে। পানি বৃদ্ধি ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণায়মান অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৩০টি পরিবারের বসতঘর ভেঙে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। কেউ কেউ ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
নদীপারের বাসিন্দারা বলছেন, ১ সেপ্টেম্বর জনতা স্কুলসংলগ্ন চৌদ্দরশি এলাকায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধের ৩৫ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে গত তিনদিনে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ও ২৫টি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভাঙন আতঙ্কে নদীর পার থেকে অনেকে ঘরের খুঁটি ও টিনের চাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
সদিয়া চাঁদপুর এলাকার মাকসুদ আলী বলেন, ‘গত তিন-চারদিনে ২০-২৫টি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শঙ্কায় আমরা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছি।’
তবে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
পাউবোর (পুরো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণায়মান অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’










