পানি বাড়া ও কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হচ্ছে কুড়িগ্রামে নদীভাঙন। এতে ভাঙনের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে নদ-নদীর অববাহিকার বাসিন্দারা। প্রতিদিনই ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অনেকে আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করলেও মিলছে না কোনো সহযোগিতা। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

প্রায় দুই মাস ধরে অব্যাহতভাবে ভাঙছে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের অববাহিকা। এরই মধ্যে ভিটেমাটি হারিয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার বজরা, বেগমগঞ্জ, রাজারহাট উপজেলার ঘোরিয়ালডাঙা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত দুই সপ্তাহে তিস্তার ভাঙনে প্রায় অর্ধশত পরিবার ঘর-বাড়ি ও ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব। হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও অসংখ্য পরিবার। অন্যদিকে গত দুই মাসে যাত্রাপুর ইউনিয়নে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালিরমেলার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত তিনবার বাড়ি ভেঙেছে। এবার ভাঙনের আগে বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘর-বাড়ি সরিয়ে অন্যের জায়গায় রেখেছি। যাওয়ার জায়গা নাই। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি।’

একই উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল বলেন, ‘আমার বাড়ি নদীর কিনারে পড়েছে। দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ অসংখ্য বাড়ি হুমকিতে রয়েছে। কিন্তু আমরা স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছি না। যেখানে ভাঙন শুরু হয়, সেখানে শুধু কিছু বালির বস্তা ফেলা হয়। কিন্তু ভাঙনের আগে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায়, এ এলাকার অন্তত ১০টি বাড়ি কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।’

ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে খুঁজে পাচ্ছেন না মাথাগোঁজার ঠাঁই টুকুও। মিলছে না সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো সহযোগিতাও। এদিকে ভাঙনের হুমকিতে থাকা পরিবারগুলোর দিন-রাত কাটছে মহাদুশ্চিন্তায়।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, বন্যার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তার ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারের ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবার ঘর-বাড়ি হারিয়েছে। এসব পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বন্যার পর তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ভাঙনকবলিত অনেক এলাকায় কাজ চলছে। এছাড়া নদ-নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধের কাজও চলমান। বিশেষ করে তিস্তার স্থায়ী ভাঙন রোধে একটি প্রকল্পের সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি পাস হলে সেখানে স্থায়ী সমাধান মিলবে।