ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাধ্যমে যে বিজয় এসেছে, তা বেহাত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। একটি গোষ্ঠী সেই বিজয় হাতিয়ে নিতে তৎপর রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। শাহবাগে দেশের ৩১টি সংগঠনের মোর্চা ‘প্রতিরোধী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন’ আয়োজিত গতকাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সম্প্রীতি সমাবেশে এ অভিযোগ করা হয়।
জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকাল সাড়ে ৪টায় এ সমাবেশ শুরু হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের দেশের জাতীয় বীর আখ্যা দিয়ে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সমাবেশ শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। এ সময় বক্তব্যের পাশাপাশি চলে প্রতিবাদী গান ও কবিতা পরিবেশনা।
বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ ফসল অন্য কারো ঘরে যেন না যায় এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। সমাবেশ থেকে চলমান পরিস্থিতিতে দিকনির্দেশনামূলক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, লুটপাট, ধর্মীয় ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ধ্বংস করার অপতৎপরতা চলছে। পটপরিবর্তনের নতুন পরিস্থিতির সুযোগে সম্পদ দখল ও চাঁদাবাজির মতো গর্হিত তৎপরতার সঙ্গেও কেউ কেউ যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রদায়িক হামলাসহ এসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।’
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘জনগণের মনে প্রশ্ন উঠেছে হাসিনা সরকারের পতনের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনী সব দায়দায়িত্ব গ্রহণের পরও কেন জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, ধর্মীয় স্থাপনা অরক্ষিত? প্রশ্ন উঠেছে, কোন বিবেচনা ও অধিকারবলে সেনাপ্রধান আন্দোলনকারী সংস্থা ও সংগঠনকে পাশ কাটিয়ে ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলসহ কতিপয় দল ও ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনায় বসলেন? এ ঘটনাই কি দেশে নানা সাম্প্রদায়িক হামলার জ্বালানি সরবরাহ করেছে? সামরিক বাহিনী দায়িত্বে থাকার পর শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দেশ থেকে কীভাবে পালাতে পারল? দেশবাসী এসব প্রশ্নের জবাব জানতে চায়। সেনাপ্রধানসহ সামরিক বাহিনীর এসব আচরণ ও তৎপরতা দেশবাসীর মনে নানা সন্দেহ ও প্রশ্নের অবতারণা করেছে।’
বিবর্তনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন শহীদ আসাদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান মিলন, পেশাজীবী নেতা ডা. হারুনুর রশিদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, শ্রমিক নেতা আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, লেখক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি জামশেদ আনোয়ার তপন।
সমাবেশে অংশ নেয়া প্রতিবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গণসংস্কৃতি কেন্দ্র, সংহতি সংস্কৃতি সংসদ, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, রাজু বিতর্ক অঙ্গন, চায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ভাগ্যকুল পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, প্রগতি লেখক সংঘ, গণসংস্কৃতি পরিষদ স্বদেশ চিন্তা সংকল্প, বাংলাদেশ থিয়েটার, তিরন্দাজ, রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ, এই বাংলায়, ঢাকা ড্রামা।










