সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন নিজ দলের বার্তা। কৌশলে চলছে নির্বাচনী প্রচারণাও। এর মধ্যে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী এপ্রিলে সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলে ভোটের আলোচনা আরো জমে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে মুহূর্তে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সে সময় রাজনৈতিক নেতাদের একটা বড় অংশই নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। যারা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান তারা এ সময়টাকে কাজে লাগাচ্ছেন এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের এ আলোচনা বা আবহ তৈরি হয়েছে সারা দেশেই।

লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গত শনিবার ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ঈদের নামাজের পর সেখানে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা। এরপর লক্ষ্মীপুর শহরের নিজের বাড়িতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের মানুষ বিগত দেড় দশক ধরে ভোট দিতে পারেনি। তারা ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে। এটা শুধু আমার এলাকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা না, সারা দেশের মানুষই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। এখন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান—সব জায়গায়ই একই আলোচনা, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হোক।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একইভাবে দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সামাজিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবস্থান করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি সেখানে ঈদ উৎসবে অংশ নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন।

প্রধান উপদেষ্টা আগামী এপ্রিলে সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অবশ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট চায়। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তাতেই মৌন সমর্থন দিয়েছে।

ভোটের জন্য এপ্রিলকে একটা বড় অংশই অবশ্য সঠিক সময় বলে মনে করছে না। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এপ্রিলে নির্বাচন করা সম্ভব কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রোজার সময় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা হয় না। রোজা রেখে প্রচার-প্রচারণা করা সমস্যা। আরেকটা বিষয় রোজার সময় যেকোনো সংঘাতের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে দমন করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাছাড়া এপ্রিল হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাস। বড় বড় ঘূর্ণিঝড়-বজ্রপাতের মতো ঘটনা এ সময় ঘটে থাকে। এছাড়া এপ্রিলে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশের পরীক্ষাও রয়েছে।’