চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাম্প্রতিক জলদস্যুতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়ে বহির্নোঙরে কোস্ট গার্ডের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, সাম্প্রতিক প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আন্তর্জাতিকমানের মেরিটাইম নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কোস্ট গার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। এতে বিদেশী জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট ও নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি আঞ্চলিক ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকলে বন্দরের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিদেশী শিপিং অপারেটরদের আস্থা কমে যেতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত বীমা ব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের 'ইজ অব ডুয়িং বিজনেস' বাড়ানো ও 'কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস' কমানোর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি অ্যাগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়ার (রিক্যাপ) সর্বশেষ প্রতিবেদনেরও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা বা চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বিত তৎপরতা এবং 'জিরো টলারেন্স' নীতির কারণে এ সাফল্য এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চেম্বার।
এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোস্ট গার্ডের টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অপরাধী চক্রের সহযোগী ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও নাবিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মানের মেরিটাইম নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে নৌপরিবহনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।










